ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার’ প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ইশতেহারে স্বল্প ব্যয়ে প্রবাসে কর্মসংস্থান, নিরাপদ বিদেশযাত্রা এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রবাসজীবন নিশ্চিত করাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছে দলটি।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ইশতেহারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে ১২ দফা পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে দলটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ম্যানপাওয়ার ইন্ডাস্ট্রি মন্ত্রণালয় হিসেবে ঘোষণা করে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনা কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া।
জেলাভিত্তিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনফরমেশন জোন গড়ে তুলে বিদেশি ভাষা শিক্ষা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষ করে তোলা হবে। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ব্যাককার্ড ও ভিসা প্রক্রিয়া পর্যন্ত সব ব্যয় সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
প্রবাসে চাকরি, ট্রেনিং, ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও প্রসেসিং সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য জটিলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।আরও পড়ুনসরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের প্রতিশ্রুতি
প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে ইশতেহারে।
বিদেশগমনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মেডিকেল ও রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল করে শ্রমবাজার সব ব্যবসায়ীর জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের সেবায় বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আরও প্রবাসীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নির্বাচন করে দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ জোরদারে সংসদে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী ও তাদের সন্তানদের মানসিক ও ধর্মীয় চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিদেশে মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যেখানে প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ, আবেদন ও সমস্যার অগ্রগতি সরাসরি ট্র্যাক করতে পারবেন।
বিদেশে প্রবাসীদের মৃত্যু হলে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানেই দাফন অথবা মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বিদেশগামী সব শ্রমিককে বিনা খরচে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে এবং বিদেশযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে আমির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে দুর্নীতি কমবে, প্রবাসীরা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান আরও সুসংহত হবে।
এমডিএএ/এমএএইচ/