খেয়ে উঠেই শুয়ে পড়ার অভ্যাসটি আমাদের অনেকের কাছেই স্বস্তির মনে হলেও, শরীরের জন্য কিন্তু মোটেও ভালো নয়। সারাদিনের ক্লান্তির পর ভরা পেটে সোফায় হেলান দেওয়া, বিছানায় আধশোয়া হওয়া বা মোবাইল হাতে চেয়ারে বসে পড়া যেন দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, খাওয়ার পরপরই বসে বা শুয়ে পড়ার এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চললে শরীরের ওপর পড়তে পারে নানা রকম নেতিবাচক প্রভাব।
আসুন জেনে নেওয়া যাক খেয়ে উঠেই শুয়ে পড়ার ফলে কী প্রভাব ফেলে আমাদের শরীরে-
১. হজমে বাধা সৃষ্টি হয় যেভাবেখাবার খাওয়ার পর শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার জন্য হালকা নড়াচড়া প্রয়োজন। সঙ্গে সঙ্গে বসে বা শুয়ে পড়লে হজম ধীর হয়ে যায়। ফলে গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুরোপুরি শুয়ে পড়ার আগে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত।
২. ওজন বাড়ার কারণখাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীর ক্যালোরি পোড়ানোর সুযোগ পায় না। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর এই অভ্যাস অতিরিক্ত ক্যালোরিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করে। ধীরে ধীরে পেট ও কোমরের চারপাশে মেদ জমতে শুরু করে।
৩. রক্তে শর্করার ওঠানামাডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে ভোগা মানুষের জন্য খাওয়ার পর বসে থাকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। নড়াচড়া না থাকলে গ্লুকোজ ব্যবহার কম হয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. ঝিমুনি ও অলসতার প্রভাবখাওয়ার পর বসে থাকলে অনেকেরই ঝিমুনি আসে। রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যাওয়ায় শরীর ভারী লাগে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়।
সমস্যা সমাধান যা বলছেন বিশেষজ্ঞরাখাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর ধীরে ধীরে হাঁটা হজমের জন্য উপকারী। খুব দ্রুত হাঁটার প্রয়োজন নেই, স্বাভাবিক গতিতে ৫-১০ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। হাঁটার সুযোগ না থাকলে অন্তত সোজা হয়ে বসুন, পুরোপুরি হেলান দেওয়া বা আধশোয়া হওয়া এড়িয়ে চলুন। খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ভারী কাজ বা ব্যায়াম না করে শরীরকে সময় দিন।
ছোট এই অভ্যাসগত পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: এভরিডে হেলথ, হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:শীতে গোসলে যে ভুল করলে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি, সতর্কতা জরুরি
এসএকেওয়াই/