তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সতর্ক ও বিচক্ষণ’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত নভেম্বরের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে শি জিনপিং এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শি জিনপিং জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, মূলত তাইওয়ান ইস্যু চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, চীন তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং কোনো অবস্থাতেই তাইওয়ানকে আলাদা হতে দেবে না। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
এই ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘অটুট ও দৃঢ়’ বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পশ্চিম তাইওয়ানে বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, তাইওয়ান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী এবং সব ধরনের সহযোগিতা প্রকল্প নির্বিঘ্নে চলবে।
তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক অঞ্চল যা চীন নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। বেইজিংয়ের নীতিমতে, যে-সব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে তারা তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখতে পারে না।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি তবে দেশটি তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় অনানুষ্ঠানিক মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী।
গত ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাইওয়ানের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ প্যাকেজের মূল্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এতে ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি সিস্টেম ও ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনো মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীন দুই দিনব্যাপী তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া চালায়, যেখানে বিমান, নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সফরটি ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে প্রথম চীন সফর হতে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কে এম