হেভিমেটাল ব্যান্ড হিসেবে ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ‘ওয়ারফেজ’ নামের একটি গানের দল। ক্রমে জনপ্রিয় থেকে তারুণ্যের ক্রেজে পরিণত হয় দলটি। এ বছর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পাচ্ছে সেই ‘ওয়ারফেজ’।
আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
যাত্রার শুরু থেকে ইংরেজি গান কাভার করত ওয়ারফেজ। কখনও কখনও তাদের গাইতে দেখা যেত রাজধানীর রাশান কালচারাল সেন্টারে। তখনকার আরেক গানের দল ফিডব্যাকের ভোকাল মাকসুদুল হকের পরামর্শে ইংরেজি ছেড়ে বাংলা গান শুরু করে দলটি। তারপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের।
১৯৯১ সালে দলের নামেই প্রকাশিত হয় প্রথম হেভিমেটাল গানের অ্যালবাম ‘ওয়ারফেজ’। বলা যায়, ওয়ারফেজের হাত ধরেই বাংলায় হেভিমেটাল জেগে ওঠে। ইংরেজি থেকে তরুণরা তখন বাংলা হেভিমেটালের দিকে মুখ ফেরায়। তাদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে ‘একটি ছেলে’, ‘বসে আছি’ গানগুলো। বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে, বাংলায়ও রক গান হয়!
ওয়ারফেজ দলের সাম্প্রতিক ছবি
কাছাকাছি সময়ে কোক স্টুডিও বাংলায় ‘অবাক ভালোবাসা’ গানটি প্রকাশের পর তন্ময় হয়ে শুনেছেন এখনকার তরুণরা। আর গত শতকের নব্বই দশকে যারা ছিলেন তরুণ, তাদের মনে পড়ে গেছে ‘অসামাজিক’, ‘জীবনধারা’, ‘ধূসর মানচিত্র’, ‘মহারাজ’-এর মতো গানগুলোর কথা। দলটির সেরা গানের তালিকায় এগুলো ছাড়াও জায়গা করে নিয়েছে ‘মৃত্যু এলিজি’, ‘পথচলা’ গানগুলো।
২০২৪-এ পথচলার চার দশক উদ্যাপন করেছে ওয়ারফেজ। এ সময়ের মধ্যে বহুবার ভেঙেছে দলটি, উঠে দাঁড়িয়েছে আবারও। ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে জড়িতরা মনে করেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড্রামার টিপু ও গিটারিস্ট কমল দলটিকে টিকিয়ে রেখেছেন।
ওয়ারফেজের গানের কবিতা একেবারে অন্যরকম। বেশির ভাগ গান লিখেছেন বাবনা করিম ও কমল। গায়কি ও গিটারে স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন সঞ্জয়, বাবনা করিম, মিজান, পলাশের মতো ভোকালিস্ট আর কমল, রাসেল আলী, জুয়েলের মতো গিটারিস্টরা। ড্রামার হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন মনিরুল আলম টিপু। নানান চড়াই-উতরাইয়ে ব্যান্ডকে আগলে রেখেছেন তিনি।
ওয়ারফেজের বর্তমান লাইন আপের দলনেতা ও ড্রামসে টিপু, ভোকালে পলাশ, লিড গিটারে কমল, সামির ও সৌমেন।
এমআই/আরএমডি