দেশজুড়ে

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চেয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ায় ইব্রাহিম সরকার নামে এক মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ঘটনার দুদিন পর ওই মুয়াজ্জিনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম সরকার দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ভট্টকাওয়াক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু একজন মুয়াজ্জিন হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় মসজিদ কমিটি তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি আগে থেকেই জামায়াতকে সমর্থন করি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে একদিন প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলাম। এই অপরাধে মসজিদ কমিটিতে থাকা কয়েকজন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের চাপে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ছোট চাকরিই ছিল আমার সম্বল। এখন চাকরি হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেকটাই অনিশ্চয়তায় ভুগছি।

অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অরুন বলেন, মসজিদটি সব দল ও মতের মানুষের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। মসজিদ কোনো নিদিষ্ট ব্যক্তি বা দলের না। কিন্তু মুয়াজ্জিন ইব্রাহিম সরকার জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি প্রকাশ্যে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এতে বিএনপির কিছু লোকজন তাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরে আমরা তাকে এ বিষয়টি সর্তক করি৷ কিন্তু তিনি চাকরি ছাড়লেও দল ছাড়তে পারবে না বলে ঘোষণা দেন। পরে সে তার বেতন পাওয়া বুঝে নিয়ে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে চলে গেছে।

নাম প্রকাশ না শর্তে মসজিদ কমিটির এক সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই মুয়াজ্জিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি নিজেই জামায়াতের প্রচারণার কথা বলে অব্যাহতি নিয়েছেন। তিনি গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পথসভায় মাইকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিল। এতে স্থানীয় মুসুল্লিদের মধ্যে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। পরে তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হওয়ার জন্য কমিটির লোকজন পরামর্শ দেয়। কিন্তু তিনি তার সম্পূর্ণ বেতন বুঝে নিয়ে এক মুসুল্লিকে চাবি দিয়ে চলে গেছেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, জামায়াতের সমর্থক বা কর্মী হওয়া কোনো অপরাধ না। একজন ভোটার হিসেবে তার একটি দলের প্রতি পছন্দ থাকতেই পারে। মূলত মসজিদ কমিটির লোকজন বিএনপি হওয়ায় তার প্রতি জুলুম করেছে। যে কারণে তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

এম এ মালেক/এনএইচআর/জেআইএম