জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দর্শকদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি নজরে আসে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাপার মনোনীত ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে জাতীয় পার্টির আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে উপস্থিত দেখা গেছে। মঞ্চের সামনে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বক্তব্য দেওয়া জন্য মাইক্রোফোনের সামনে যাচ্ছিলেন। এমন সময় উপস্থিত লোকজনদের একটি অংশ ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’ স্লোগান দিচ্ছেন। দর্শকরা হাত উঁচিয়ে নাচানাচি করছে। কেউ কেউ শিশুকে ঘাড়ে নিয়ে নাচছেন। শামীম হায়দার পাটোয়ারী এদিক, ওদিক তাকাচ্ছিলেন। তবে মঞ্চ থেকে মাইকে বার বার মনোযোগ আকর্ষণ করার আহ্বান করলেও দাঁড়িপাল্লা স্লোগান দিচ্ছিলেন দর্শকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন এলাকার। সম্প্রতি রামজীবন ইউনিয়নের মেগা ফাইনাল খেলার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
জাতীয় পার্টির প্রার্থীর উপস্থিতিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের স্লোগানে মুখর স্থানীয় রাজনীতিতে ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ হবে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়োজকদের একজন বলেন, সেইদিন ছিল ফাইনাল ফুটবল খেলা। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া কথা ছিল। সেখানে শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে প্রধান অতিথি করা হয়। অনুষ্ঠানের মাঝে হঠাৎ কিছু দর্শক দাঁড়িপাল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের স্লোগান দেওয়া শুরু করে। জাপার সচিব যেখানে উপস্থিত, সেখানে অন্য দলের প্রতীকের স্লোগান দেওয়ায় অনুষ্ঠানের বিঘ্ন ঘটে।
এ বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়ন জাতীয় পাটির সভাপতি এনামুল হক মন্টু বলেন, গত বুধবার বিকেলে ইউনিয়নে ফুটবল ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পাটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। মহাসচিব মঞ্চে উপস্থিত থাকাকালীন পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িপাল্লা মার্কার স্লোগান দিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে। এ কাজটি সুপরিকল্পিতভাবে মহাসচিবকে হেয় করার জন্য করছেন একটি দলের লোকজন। এতে ভোটের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
আনোয়ার আল শামীম/এনএইচআর/এএসএম