দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের যতগুলো ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন হয় তার সব শিরোপাই এখন বাংলাদেশের। সিনিয়র এবং বয়সভিত্তিক সাফের সাথে এবার নতুন ট্রফি যোগ হয়েছে ফুটসালে। আগামীকাল (শনিবার) নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের মেয়েদের রাজত্ব শতভাগ অক্ষুন্ন থাকবে। নেপালের পোখারায় বিকেল ৩ টায় শুরু হবে ফাইনালে। এই দুই দেশ টুর্নামেন্টের বর্তমান যৌথ চ্যাম্পিয়ন।
ফাইনাল উপলক্ষ্যে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার অবশ্য অতীত সাফল্যগুলোর কারণে বেশি উচ্ছ্বসিত না হওয়ার কথাই বলেছেন। মেয়েদের মাটিতে পা রেখে খেলার কথাই বলেছেন। লিগ পর্বে ভারতকে হারানোয় মেয়েরা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ধাকলেও কোচ তাদের খেলার মাঠে বেশি মনযোগী হতে বলেছেন। বাটলার ফলাফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের সুস্থতা ও মানসিক অবস্থার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন এক ভিডিও বার্তায়।
পিটার বাটলার বলেছেন, ‘আমরা অনুশীলনের মাত্রা যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কারণ অনুশীলনের মাঠটি খেলার উপযুক্ত নয়। অন্যান্য দেশগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চোট পেয়েছে। আমার প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুস্থ দল মাঠে নামানো। তাদের সুস্থতা আমার কাছে সবার আগে।’
পিটার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের কথা মাথায় রেখে কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেয়েদের মাটিতে পা রাখা, বিনয়ী থাকা এবং আমাদের ফুটবল দিয়েই মাঠের জবাব দেওয়া। লিগ পর্বে ভারতকে হারিয়ে দিলেও ফাইনালে তারা অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে বলে মনে করি। ওরা কিভাবে খেলবে সে সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। তাদের দলে বেশ কিছু মেধাবী খেলোয়াড় আছে। আমাদের সেরা ফর্মে থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের তাদের আবারও হারাতে হবে’ – বলেছেন এই ব্রিটিশ কোচ।
ফুটবলে অতি আত্মবিশ্বাসের কোনো জায়গা নেই উল্লেখ করে পিটার বলেছেন, ‘অতীতে যা হয়েছে তা অতীত। আমাদের সেটা ভুলে সামনে এগোতে হবে। আমরা একটি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ম্যাচে নামছি, কিন্তু কোনোভাবেই অতি-আত্মবিশ্বাসী নই।’
ইনজুরির কারণে পুরো টুর্নামেন্টে বাটলারকে দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। লিগ পর্বের ম্যাচগুলোতেও সাত-আটটি পরিবর্তন এনে খেলিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের রিজার্ভ বেঞ্চ খুব শক্তিশাল উল্লেখ করে পিটার বলেছেন, ‘ফাইনালে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিই বড় পার্থক্য গড়ে দেবে। এই ম্যাচ থেকেই বোঝা যাবে কোন খেলোয়াড়রা ভবিষ্যৎ এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।’
আরআই/আইএন