বিনোদন

‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’ গানের সুরকার মো. শাহনেওয়াজ মারা গেছেন

‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’সহ অনেক শ্রোতাপ্রিয় গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ আর নেই (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজিউন)। আজ (৭ ফেব্রুয়ারি) কানাডাতে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বেতারের সুরকার ও সংগীত পরিচালক রুমন হায়াৎ।মো. শাহনেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

রুমন হায়াৎ বলেন, ‘দুঃসংবাদটি আমাকে জানিয়েছেন তার ছেলে মহিউদ্দিন নেওয়াজ স্বাধীন। এমন সংবাদ জেনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। তার মতো একজন্য বরেণ্য সংগীত পরিচালক ও সুরকারকে হারিয়ে দেশের সংগীতাঙ্গনে বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’ মো. শাহনেওয়াজ সত্তর দশকের শুরুতে বিটিভিতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তার সুরারোপিত গানের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। তার সুর করা গান ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল, রেল লাইন বহে সমান্তাল’ ও ‘জীবনানন্দ হয়ে সংসারে আজও আমি সব কিছু ভুলে যেন করি লেনদেন’ গান দুটি তাকে সুরকার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

মো. শাহনেওয়াজের সুর করা আরও শ্রোাতপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, ‘এক নয়নে হয় না কান্দন দুই নয়নে কাঁদে’, ‘দমে দমে মাটির পুতুল কি করে যে চাই’, ‘তুমি কি সেই তুমি’, ‘একটি বজ্রকণ্ঠ থেকে বাঙালির উথ্থান’, ‘সোনামুখি সুই দিয়ে সেলাই করা কাজ’, ‘সুখের সংজ্ঞা কী যদি আমি জানতাম’, ‘সবাই তো শাজাহান হতে চায়’, ‘আমার জসীমউদ্দিন কই নকশী কাঁথার মাঠে’, ‘আশা ছিল মনে মনে প্রেম করিব তোমার সনে’, ‘চাঁদের পালকি চড়ে আসলো সবার ঘরে আসলো খুশির ঈদ’, ‘চোখ দেখি, মুখ দেখি,অন্তর দেখি না’, ‘আজ থেকে আমি বউ তুমি যে স্বামী’ ও ‘ভালোবাসি আমার মাকে ভালবাসি মায়ের ভাষাকে’।

মো. শাহনেওয়াজের সুর করা গানে শাহনাজ রহমাতুল্লাহ, ফেরদৌসী রহমান, রুনা লায়লা, দিলরুবা খান, মো. আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমীন, সৈয়দ আবদুল হাদী, ফাহমিদা নবীসহ দেশের খ্যাতিমান প্রায় সব শিল্পীরাই কণ্ঠ দিয়েছেন।

১৯৯৯ সালে ইউনিসেফ মাতৃভাষা দিবসের উদ্বোধনী সংগীত পরিচালনা করেন মো. শাহনেওয়াজ। টেলিভিশনের কর্মজীবনে বিশেষ বিশেষ দিবসে সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। বিটিভিতে প্রচারিত নাটক ‘তৃষ্ণা’র সংগীত পরিচালনার জন্য তিনি জার্মানি থেকে বেস্ট টিভি অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার লাভ করেন।এছাড়াও তিনি ১৯৮৮ সালে নাট্যসভা পুরস্কার, ২০০৯ সালে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, ২০১৩ সালে শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতিপদকসহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:নিজের একুশে পদক কাকে উৎসর্গ করলেন ববিতা নেদারল্যান্ডসে ৪৩ লাখ টাকা পাচ্ছে সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ছেলের সিনেমা 

তার সুরারোপিত গান নিয়ে এইচএমভি থেকে ১৯টি ডিস্ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০টিরও অধিক ক্যাসেট ও সিডি বের হয়েছে। তিনি ১৫টি চলচ্চিত্রেও সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে সফর করেছেন আমেরিকা, চীন, ভারত, মরিশাস, মালয়শিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।

এমএমএফ/এলআইএ