তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ ও যমুনায় ভাঙনকবলিত সিরাজগঞ্জ-৫ আসন। এ আসনে নবীন-প্রবীণের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আসনটিতে এবার প্রথম বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আলী আলম। জামায়াতের এ প্রার্থী ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দুই প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা রাত-দিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, আসনটিতে এবার নবীন-প্রবীণের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। এতে সাধারণ ভোটারদের কদর বেড়েছে। এদিকে দুই প্রার্থী ভোটার এবং মাঠের পরিবেশ অনুকূলে নিতে জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে জামায়াতকে জয়ী করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। তিনি ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে একই আসনে ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের কাছে মাত্র ২৫২ ভোটে পরাজিত যান।
কিন্তু এবার বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদেন। এরপর এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেলেও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের অধ্যক্ষ আলী আলমকে চূড়ান্ত করা হয়। পরে তিনি তার হয়ে কাজ করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, অধ্যক্ষ আলী আলমের সঙ্গে আমিরুল ইসলাম খান আলীমের ভোটের লড়াইটা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটের মাঠে বিএনপির এ নবীন প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা আলীমকে হারাতে বিরামহীনভাবে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন জামায়াতের প্রবীণ প্রার্থী আলী আলম। তাকে ছোট বড় সবাই খুবই শ্রদ্ধা করে। দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ত থেকে কাজ করা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ ভাবছেন, আওয়ামী লীগের ভোট জামায়াত না পেলে বিএনপি জয়ী হবে। এদিকে দীর্ঘদিন পর নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ আসায় তরুণ ভোটারাও ভেবেচিন্তে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, আসনটিতে দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী। নির্বাচনের শুরুতে জামায়াত প্রার্থী আলী আলমকে হালকাভাবে নিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতা কর্মীরা এখন সিরিয়াসলি মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে পাশে টেনে মাঠের পরিবেশ অনুকূলে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আলী আলম ও তার বড় সমর্থক হলেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর কাদের। তার নির্বাচন নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে তিনি কীভাবে সমীকরণ মেলাচ্ছেন তা ভালোভাবে দৃষ্টি রাখছেন বিএনপির আলীম। এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আলী আলমের নির্বাচনি অনেক কৌশল সম্পর্কেও ধারণা রয়েছে। ফলে নবীন-প্রবীণের এ ভোট যুদ্ধে প্রবীণের জয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখছেন তারা।
আসনটিতে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন- হাতপাখা প্রতীকের নুরুন নাবী, লাঙল প্রতীকের আকবার হোসেন, ট্রাক প্রতীকের ইউসুফ আলী ও কাস্তে প্রতীকের মতিয়ার রহমান। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৯১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুজন। মোট ১৩১টি ভোট কেন্দ্রে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন।
এম এ মালেক/আরএইচ/এএসএম