আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান থেকে রেলের কোচ-ওয়াগন কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ

পাকিস্তানের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান রেলওয়ের উৎপাদন সক্ষমতা ও কারিগরি মান যাচাই করতে দেশটিতে সফর করেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারেজ ফ্যাক্টরি এবং লাহোরের মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছে। সেখানে রোলিং স্টক উৎপাদন প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি রেলওয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্রিফিং নেওয়া হয়।

লাহোরভিত্তিক পাকিস্তান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার বিষয়ক সচিব এবং মনোনীত ডি-৮ কমিশনার ফরহাদুল ইসলাম ও পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন>>বাংলাদেশ কেন পাকিস্তানের জেএফ–১৭ কিনতে আগ্রহী, কী আছে এই যুদ্ধবিমানে?১৪ বছর পর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পাকিস্তানে নামলো বিমানবাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেই ভারত ম্যাচ বর্জন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ ও ওয়াগন) মুহাম্মদ নাসির খলিলি প্রতিনিধিদলকে ওয়ার্কশপগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম, কারিগরি সক্ষমতা এবং চলমান প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় রেলওয়ের উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

খলিলি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, যাদের মধ্যে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিল রয়েছে। বিশেষ করে রেল খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল মুঘলপুরা লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপও ঘুরে দেখে। সেখানে লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ও উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

সফর শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই পরিদর্শনকে তথ্যবহুল, ফলপ্রসূ ও উৎসাহব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেন। ফরহাদুল ইসলাম বলেন, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

এদিকে, পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরাসরি সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হতে পারে।

পাকিস্তান রেলওয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনাসহ চারটি ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কসম্পন্ন দেশে কোচ ও ওয়াগন সরবরাহ করছে। রেলমন্ত্রী বলেন, এতে প্রমাণ হয় যে পাকিস্তান রেলওয়ে আধুনিক ও দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে।

খলিলি জানান, পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশের রেল বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানে গিয়ে আরও বিস্তৃত কারিগরি মূল্যায়ন করবেন। তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তান রেলওয়ে রোলিং স্টক রপ্তানি করেছে।

বর্তমান আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে রেল বগি সরবরাহের ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি উপযোগী ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখন ঢাকার আগ্রহ পাকিস্তানের দিকেই বেশি বলে জানান পাকিস্তান রেলওয়ের এই কর্মকর্তা।

সূত্র: ডনকেএএ/