অর্থনীতি

ধীরগতির হলেও অর্থনীতিতে সম্প্রসারণ অব্যাহত

 

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও এর গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে বলে জানিয়েছে সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই)। জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের পিএমআই সূচক ডিসেম্বরের তুলনায় ০.৩ পয়েন্ট কমে ৫৩.৯-এ দাঁড়িয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহযোগিতায় সূচকটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সময়োপযোগী অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহই এই সূচকের মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে কৃষি, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আগের মাসে সংকোচনের পর নির্মাণ খাত আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে।

কৃষি খাতে টানা পঞ্চম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড হয়েছে, যদিও প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। নতুন ব্যবসা ও কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন উপকরণ খরচ সূচকে সংকোচন দেখা গেছে।

উৎপাদন খাত টানা ১৭তম মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে। নতুন অর্ডার, কারখানা উৎপাদন, আমদানি, উৎপাদন উপকরণের মূল্য এবং সরবরাহকারীদের ডেলিভারি সূচকে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে নতুন রপ্তানি, উৎপাদন উপকরণ ক্রয়, সমাপ্ত পণ্য এবং কর্মসংস্থানে সংকোচন লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় অর্ডার ব্যাকলগ আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে।

নির্মাণ খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম এবং উৎপাদন উপকরণ ব্যয়ে সম্প্রসারণ হলেও কর্মসংস্থান এবং অর্ডার ব্যাকলগ সূচকে সংকোচন রেকর্ড হয়েছে।

অন্যদিকে পরিষেবা খাত টানা ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে এবং এ খাতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও জোরদার হয়েছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, উৎপাদন উপকরণ ব্যয় এবং অর্ডার ব্যাকলগ—সব সূচকেই সম্প্রসারণ দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক আভাস পাওয়া গেছে। কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিষেবা—অর্থনীতির সব প্রধান খাতেই দ্রুততর সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে উত্তরদাতাদের মতে, সার্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনও দুর্বল ও অনিশ্চিত। কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও ব্যবসায় বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। এর ফলে অর্ডার স্থগিত রাখা, বিনিয়োগে অনীহা এবং ক্রেতাদের সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি মৌসুমি প্রভাব এবং আমদানির কারণে কিছু খাতে চাহিদা কমেছে। যদিও অনেক ব্যবসায়ী মার্চ বা নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন, বর্তমানে উচ্চ খরচ ও নগদ অর্থ সংকট ব্যবসার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সর্বশেষ পিএমআই সূচকগুলো অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বল পুনরুদ্ধার এবং সতর্ক অর্ডার প্রদানের কারণে উৎপাদন খাতের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেরিতে শরৎকালীন ধান কাটার ফলে কৃষি খাতেও কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেছে। তবে সব খাতে ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ অর্থনীতিতে টেকসই আশাবাদের ইঙ্গিত বহন করছে।

আইএইচও/এমএমএআর