দেশজুড়ে

নির্বাচনি মাঠে বিএনপি-জামায়াত ও বিদ্রোহীসহ আলোচনায় ১৩ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন বাকি। প্রচারণার শেষ সময় পার করছে প্রার্থীরা। জেলার ছয়টি আসনে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত আলোচনায় রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের ১১ জন প্রার্থী ও বিএনপির ২ বিদ্রোহী প্রার্থী।

মূলত এবারের নির্বাচনে দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে বিএনপি-জামায়াত ও ১টি আসনে বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী এবং আরেকটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

জেলার ৬টি আসনের প্রত্যেকটি নির্বাচনি এলাকার ২০ জন করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র উঠে এসেছে।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)

হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির মনজুরুল হক চৌধুরীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছেন জামায়াত নেতা মো. মতিউর রহমান। জোটগত জটিলতা কাটিয়ে এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখা যাচ্ছে। বিএপির প্রথম সারির নেতার সঙ্গে প্রার্থীর কিছুটা দুরত্ব থাকলেও জামায়াতের সবাই কাজ করছেন এক সঙ্গে। তবে লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ)

এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহীতেই বিএনপির প্রার্থীর কপাল পুড়তে পারে। ফলে আসনটি জামায়াতের জন্য দারুণ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আ ন ম বজলুর রশিদ কালু বেশ জনপ্রিয়। আর দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকা জামায়াত প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনামের দাঁড়িপাল্লার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে ভোটাররা। সব মিলিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর-৩ (সদর)

বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে প্রয়াত মন্ত্রী মরহুম খুরশীদ জাহান হকের স্মৃতি এখনও অমলিন। উন্নয়নের কথা আসলেই তার নাম মানুষের মুখে উচ্চারণ হয় এখনও। তবে দলীয় ঠান্ডা কন্দল নেতাদের অনীহা ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের জন্য কিছুটা চিন্তর কারণ। দলের মোটা দাগের নেতারা প্রচারণা চালাচ্ছেন দিনাজপুর-৬ আসনে গিয়ে। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মো. মাইনুল আলম এখানে মর্যাদার লড়াইয়ে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নেমেছেন। তার প্রতি গ্রামের ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। শহর গ্রামের লড়াইয়ে শেষ হাসিটা কে হাসবেন তা নিশ্চিত করে বলতে পাছেন না কেউ।

দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা)

বিএনপির নেতা সাবেক এমপি আকতারুজ্জামান মিঞার সঙ্গে লড়াইটা হবে জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মোল্লার। নির্বাচনি এলাকায় দুই প্রার্থীই তুমুল জনপ্রিয়। দুই প্রার্থী চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা। কাজেই খানসামা উপজেলার ভোটাররা যার দিকে ঝুঁকবেন তিনিই বিজয়ী হবেন। তবে মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিএনপির অন্তঃকন্দল যেভাবে প্রকাশ্যে রূপ নেয় এবং হামলা-মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল, তা যদি তুষের ধোঁয়ায় রূপ নেয় তাহলে বিএনপির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর)

আসনটি জেলার অর্থনৈতিক জোন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আসনটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। প্রয়াত মন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ৮ বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রথম বারের মতো বিএনপির জন্য সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠা এই আসনটিতে এবার লড়াইটা হবে বিএনপির তরুণ প্রার্থী ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হকের। এই আসনে জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়ে তাদের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) প্রার্থী ডা.মো. আব্দুল আহাদকে সমর্থন দিয়েছেন। তাই ধান বনাম ধানের শীষের দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি এবারের বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কে পাবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট)

এখানে সরাসরি লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। বেগম জিয়ার বিশ্বস্ত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের প্রবীণ নেতা সাবেক জেলা আমির মো. আনোয়ারুল ইসলাম। বিগত সরকারের সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে ভূমিকা রেখেছেন, তার জন্য তিনি নিজ এলাকাসহ দেশের মানুষ ও দলের নেতা কর্মীদের কাছে প্রশংসা, শ্রদ্ধা ভালোবাসা পেয়েছেন। অপরদিকে মো. আনোয়ারুল ইসলাম জেল জুলুম নির্যাতন মাথায় নিয়ে মানুষের কাছে হাসিমুখে কথা বলে মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। চারটি উপজেলা নিয়ে সীমান্ত ঘেষা এই আসনে দুই প্রার্থী তুমুল জনপ্রিয়। সে কারণে নিশ্চিত করে বলা কঠিন জয়ের মালা কার গলায় উঠবে।

দিনাজপুরের ৬টি আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থী থাকলেও তারা কেউ আলোচনায় নেই। দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনটিতে জামায়াত জোটের এনসিপির প্রার্থী ডা.মো. আব্দুল আহাদ খুব একটা আলোচনায় আসতে পারেননি।

এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর/জেআইএম