জাতীয়

চট্টগ্রামের ৬৫৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র এক হাজার ৯৬৫টি। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬ থানার অধীনে। অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭ থানার অধীনে। এরমধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কেন্দ্রগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এ তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে থাকা ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে ৭ দিনের জন্য। ৭ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে বলা হয়, ভোটের চার দিন আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরে দুদিন ৮ ফেব্রুয়াারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ, কম গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা এসব কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, মহানগরীর অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে চারজন করে অস্ত্রসহ পুলিশ, দুজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও নারী আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে তিনজন করে অন্ত্রধারী পুলিশ, দুজন অস্ত্রধারী আনসার, প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও নারী আনসার মোতায়েন থাকবে।

জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশের অধীনে থাকা এক হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৩টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬৮৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩২৭টি কেন্দ্রকে তারা সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সিএমপির সংশ্লিষ্ট জানা গেছে, সিএমপির অধীনে থাকা মোট ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, ১৫০টি কম গুরুত্বপূর্ণ ও ১৪৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার অধীনে ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চকবাজার থানার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে আটটি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সদরঘাট থানার ২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং পাঁচটি সাধারণ ও ৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চান্দগাঁও থানার ৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ, পাঁচলাইশের ৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩টি সাধারণ ও ১০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, খুলশী থানার ৪৭টির মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রই অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার ৫৬টির মধ্যে ১৮টি করে কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২০টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ৪৮টির মধ্যে ১৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৯টি সাধারণ ও ১১টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হালিশহর থানার মোট ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬টি সাধারণ এবং ৪টি গুরুত্বপূর্ণ, পাহাড়তলীর ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আকবরশাহ থানার ২৩টি কেন্দ্রের সবকয়টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনগণভোট কেন, কীভাবে দেবেন? ইসিবি থেকে জসীমউদদীন পর্যন্ত ৬০ ফুটের সড়কের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের 

তবে বন্দর থানা এলাকার ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এ থানা এলাকার ২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৩টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ। ইপিজেড থানার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি সাধারণ ও ১৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ, পতেঙ্গার ২৫টির মধ্যে সাতটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, একটি সাধারণ এবং ১৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলার ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে সিএমপি।

মীরসরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১ এর মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার অধীনে কোনো কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। মীরসরাই থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ এবং চারটি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার ২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও ২১টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ।

ফটিকছড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনটি দুই থানার অধীনে। এ আসনটিতে ফটিকছড়ি থানার ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ভূজপুর থানার ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ, ১৪টি সাধারণ ও ৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপের আসনটিতে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ১০টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড থানার ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২টি সাধারণ কেন্দ্র। চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী উপজেলার ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৭৪টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এবং একটি সাধারণ কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম-৬ রাউজান উপজেলায় ৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৪টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনটিতে রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া নামে দুটি থানা রয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া থানার ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি সাধারণ ও ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলেও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপর ছয়টি কেন্দ্রকে সাধারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালীতে ৮৫টি কেন্দ্রের ২৫টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়ায় ১১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬৩ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনটির কর্ণফুলী উপজেলা মহানগর পুলিশের অধীনে। আনোয়ারা থানার ৭১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৩২টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরাণগড় ও খাগরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে। এ আসনের চন্দনাইশ উপজেলার ৬৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতকানিয়া থানার ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১০টি কেন্দ্র সাধারণ।

লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া থানার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসন। এ আসনের লোহাগাড়া থানার ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭ কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪টিকে ধরা হয়েছে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে। সাতকানিয়া অংশের ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী উপজেলার ১১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২১টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫০টি আসনকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমডিআইএইচ/কেএসআর