অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সোমবার, শুল্ক আরও কমার আশা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক আরও কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এদিকে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যাবেন না বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও। চুক্তি সই করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচক দল ওয়াশিংটন ডিসিতে গেছেন। তবে উপদেষ্টা ও সচিব চুক্তি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন।

অন্যদিকে চুক্তির নানা শর্ত নিয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। কারণ এর আগে চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুনবাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক রাখলেন ট্রাম্পবাণিজ্যচুক্তি না করলে ৭০ শতাংশ শুল্কারোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি আসে গত বছরের এপ্রিলে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ফাঁকে চলতে থাকে আলোচনা ও দর-কষাকষি। গত বছরের ১৩ জুন দেশটির সঙ্গে একটি এনডিএ সই করে বাংলাদেশ, যেখানে শুল্ক চুক্তি গোপন রাখার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়। ওয়াশিংটনে গিয়ে আলোচনা শেষে গত বছরের ২ আগস্ট পাল্টা শুল্কের হার ঠিক হয় ২০ শতাংশ। এ হার ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রয়েছে ৩৫ শতাংশ।

এদিকে আগামীকাল চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ শুল্ক আরও কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা বলেন, আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায় (শুল্ক); আশা করছি ৯ তারিখে হতে যাওয়া চুক্তিতে কমবে; তবে কতটুকু কমবে তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখবো।

অন্যদিকে চুক্তির শর্ত নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে এটি প্রকাশও করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, শুল্ক, অশুল্ক, ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎসবিধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভিন্ন শর্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

অন্যদিকে চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

এনএইচ/ইএ