খেলাধুলা

নেপালের কাছে হারতে হারতে বেঁচে গেলো ইংল্যান্ড

নেপালের সামনে নিশ্চিত পরাজয়ের সামনে দাঁড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ১০ রানের প্রয়োজন ছিল নেপালের। উইকেটে ১৫ বলে ৩৫ রান করা লোকেশ বাম। বোলার ছিলেন স্যাম কারান। লোকেশ বামের সামনে ১০ রান যেন ছিল তখন খুব মামুলি বিষয়।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে পেশাদারিত্বের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ পেশ করেছে ইংলিশরা। স্যাম কারান ৫ রানের বেশি দিলেন না। ফলে নিশ্চিত জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র ৪ রানে হারতে হলো নেপালকে।

শিরোপার অন্যতম ফেবারিট ইংল্যান্ড যেভাবে নেপালের মত দুর্বলতম দেশের সামনে কেঁপে উঠেছিল, তাতে তারা শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপাল ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত বড় চমক দেখাতে পারেনি তারা।

আগে ব্যাট করে জ্যাকব বেথেল ও হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত অর্ধশতকে ইংল্যান্ড সংগ্রহ করে ১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। জ্যাকব বেথেল ৫৫ রান এবং হ্যারি ব্রুক ৫৩ রান করে আউট হন।

জবাবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে নেপাল। ওপেনার কুশল ভুর্তেল জোফরা আর্চারের এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মেরে দলের জন্য দারুণ সূচনা এনে দেন। এরপর দিপেন্দ্র সিং আইরি ও অধিনায়ক রোহিত পাউডেলের ৫৪ বলে ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ম্যাচে নেপালকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। শেষ ছয় ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৬২ রান।

তবে দ্রুত এই দুই সেট ব্যাটার আউট হয়ে গেলে ম্যাচ আবার ইংল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু শেষদিকে লোকেশ বাম দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেন। স্যাম কারানের বিপক্ষে বাউন্ডারি এবং আর্চারের এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি সমীকরণ সহজ করে ফেলেন। লুক উডের করা ১৯তম ওভার থেকে আসে ১৪ রান, ফলে শেষ ওভারে নেপালের প্রয়োজন দাঁড়ায় ১০ রান।

শেষ ওভারে দায়িত্ব নেন স্যাম কারান। চাপে থেকেও দারুণ ইয়র্কার লেন্থে বল করে মাত্র ৫ রান দেন তিনি। শেষ বলে ছক্কা প্রয়োজন ছিল নেপালের, কিন্তু বাম বলটি সঠিকভাবে টাইম করতে না পারায় ডিপ এক্সট্রা কভারে ক্যাচ উঠে যায়। ক্যাচ ধরতে পারেননি ফিল্ডার। তবে ১ রানের বেশি দেননি।

রোমাঞ্চকর এই জয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও আরেকটি হৃদয়ভাঙা হার সঙ্গী হলো নেপালের। তবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে যেভাবে চাপে ফেলেছে, তাতে নেপালের লড়াকু পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আইএইচএস/