দেশজুড়ে

জামায়াত জোট ভাঙার সুবিধা নিচ্ছেন বিএনপির ব্যারিস্টার খোকন

নোয়াখালী-১ আসনে ১১ দলীয় জোট ভেঙে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন আলাদা নির্বাচন করায় সুবিধা নিচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাটখিল বাজারে গিয়ে দেখা যায় এখানকার সাতজন প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের ধারণা, বিএনপির ব্যারিস্টার খোকনের সঙ্গে জামায়াতের মো. ছাইফ উল্যাহ ও ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলামের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

মো. আবদুর রহিম নামে বাজারের এক ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, এখানে জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকায় আগে থেকে জামায়াত প্রার্থী মাঠে ছিলেন না। পরে জোট ভেঙে যাওয়ায় জামায়াতও প্রার্থী দেয়। ফলে জোটের বিভক্তিতে বিএনপি অধ্যুষিত এ আসনে ব্যারিস্টার খোকন সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী-১ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি), ১৯৯৬ (জুন) ও ২০০১ সালে এ আসনে বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী) এবং ২০০৮ সালে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের এইচএম ইব্রাহীম এখানে এমপি ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ২০০৮ সালে একবার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ওই বছর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এতে করে তিনি এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেননি বলে মনে করে এলাকার ভোটাররা।

এবার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট থেকে নোয়াখালী-১ আসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ায় সেখানে জোটের প্রার্থী এখন জামায়াতের জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ছাইফ উল্যাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন জানা গেছে, চব্বিশের ৫ আগস্ট আন্দোলনের দিন এ আসনের চাটখিল ও সোনাইমুড়ী থানায় আগুন দিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট করে সন্ত্রাসীরা। ওই অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে নির্বাচনের দিন। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবে যেন অস্ত্র দিয়ে ভোটারদের জিম্মি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন (ধানের শীষ) বলেন, এটি বিএনপির আসন। বিগত তিন সংসদে এখানে ভোটবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জবরদখল করেছিল। এখানকার নারী ও তরুণ ভোটাররা এবার ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবার তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে ধানের শীষে ভোট দিবেন।

জামায়াতের প্রার্থী মো. ছায়েফ উল্যাহ (দাঁড়িপাল্লা) বলেন, আমরা চাঁদাবাজমুক্ত ইনসাফের দেশ গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি ভোটারদের। যথেষ্ট সাড়াও পাচ্ছি। এ ব্যাপারে নারীদের বিপুল সমর্থন পাচ্ছি। ১২ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে দাঁড়িপাল্লা বিপুল ভোটে জয়ী হবে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (হাতপাখা) বলেন, আমি দীর্ঘদিন মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এলাকার অসহায়দের সাহার্য্য সহযোগিতা করে আসছি। ভবিষ্যতেও সেটি অব্যাহত থাকবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি চাটখিল-সোনামুড়ীর জনগণ হাতপাখার পক্ষে রায় দিবে।

নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত ছাড়াও আরও চার দলের প্রার্থী রয়েছে। তারা হলেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মশিউর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) রেহানা বেগম।

এ আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ভোটার চার লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৬ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ১৮ হাজার ৬৫৯ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪১টি।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/জেআইএম