ভালোবাসা নিবেদন আর চকলেট যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা বলতে গেলে কেন আমরা বারবার সেই মিষ্টি, মখমলে চকলেটের কাছেই ফিরে যাই?
এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ইতিহাস, জৈবিক বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের এক অপূর্ব মিশেলে। চলুন আজ চকলেট দিবসে জেনে নেওয়া যাক চকলেটের সঙ্গে রোমান্সের কী সম্পর্ক?
শরীরের ভেতর চকলেট যা ঘটায়চকলেট খাওয়ার পর যে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়, তা কেবল স্বাদের কারণে নয়। এর পেছনে কাজ করে কিছু শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান।
১. ফেনাইল ইথাইলামাইন (পিইএ)একে অনেক সময় ‘লাভ ড্রাগ’ বা প্রেমের রাসায়নিক বলা হয়। প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে যে রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, চকলেটেও তার উপস্থিতি রয়েছে। এটি ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়, ফলে উত্তেজনা ও আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়।
চকলেট মস্তিষ্কে এই দুই নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে মানসিক চাপ কমে, মন হালকা হয় এবং একধরনের প্রশান্তি আসে - যা ভালোবাসার অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
৩. ফ্ল্যাভোনয়েডসবিশেষ করে ডার্ক চকলেটে থাকা এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এতে শরীরে উষ্ণতা ও সজীবতার অনুভূতি তৈরি হয়, যা রোমান্টিক আবহকে আরও তীব্র করে তোলে।
মানসিক যোগসূত্রএতা সব রাসায়নিক প্রভাব থাকলেও চকলেটের রোমান্টিক আবেদন শুধু রাসায়নিক নয়, এর কিছু মানসিক যোগসূত্রও আছে -
১. শরীরের তাপমাত্রায় চকলেট গলে যাওয়াচকলেটের গলনাঙ্ক প্রায় ৩৩-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মানুষের শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি। ফলে মুখে দিলেই এটি ধীরে ধীরে গলে যায় এবং একটি আনন্দদায়ক সেনসরি অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কাউকে চকলেট উপহার দেওয়া মানে তার প্রতি যত্ন, স্নেহ ও মমতা প্রকাশ করা। এটি একসঙ্গে মিষ্টি, সুন্দর এবং খানিকটা বিলাসী - যা ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
৩. ভাগ করে নেওয়ার ঘনিষ্ঠতাচকলেট শেয়ার করা বা একে অপরকে খাইয়ে দেওয়া ঘনিষ্ঠ ও রোমান্টিক আচরণ হিসেবে জনপ্রিয়। এতে সম্পর্কের আবেগ ও আবেগের গভীরতা বাড়ে।
চকলেট কেবল একটি খাবার নয়, এটি একটি অনুভূতি। তাই প্রিয়জনকে চকলেট উপহার দেওয়া মানে শুধু মিষ্টি কিছু দেওয়া নয়, বরং নিজের ভালোবাসা ও যত্নকেও তার হাতে তুলে দেওয়া।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি, জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজি, ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন
এএমপি/এমএস