আন্তর্জাতিক

মুসলিমদের ছবিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ‘গুলি ’, বিতর্কের ঝড়

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি ভিডিওকে ঘিরে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মুসলিমদের মতো পোশাক পরা দুই ব্যক্তির ছবির দিকে বন্দুক তাক করে গুলি করছেন। ভিডিওটি প্রকাশে আসতেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু করেছেন বিরোধীরা, বিশেষ করে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, এটি সরাসরি ‘গণহত্যার ডাক।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আসাম বিজেপির অফিশিয়াল পেজ থেকে পোস্ট করা হয়। পরে বিতর্ক শুরু হলে সেটি মুছে ফেলা হয়।

Deleting the video where Assam CM Himanta Biswa Sarma is shown shooting Muslim men with a caption ‘POINT BLANK SHOT’ isn’t enough This is who the BJP really is: Mass murderersThis venom, hatred and violence is on you Mr ModiAre the courts and other institutions sleeping? pic.twitter.com/pcWd6nLfpf

— Supriya Shrinate (@SupriyaShrinate) February 8, 2026

ভিডিওতে দেখা যায়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি রাইফেল হাতে নিয়ে দুজনের দিকে নিশানা করে গুলি ছুড়ছেন। ওই দুজনের একজনের মাথায় টুপি ও অন্যজনের মুখে দাড়ি। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘পয়েন্ট ব্ল্যাংক শট’। যে দেয়ালে ছবিগুলো টাঙানো ছিল, সেখানে লেখা ছিল, ‘No mercy’ বা ‘কোনো দয়া নয়।’

এই ভিডিওর সমালোচনা করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেণুগোপাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এটি স্পষ্টতই গণহত্যার ডাক। এই ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা কয়েক দশক ধরে এমন স্বপ্নই লালন করে এসেছে।

ভেণুগোপাল আরও বলেন, এটিকে কোনো সাধারণ ভিডিও বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষমতার একেবারে শীর্ষ থেকে এই বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। এর পরিণতি হওয়া উচিত। এ বিষয়ে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপও দাবি করেন তিনি।

ভিডিওটি নিয়ে কংগ্রেসের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও কড়া ভাষায় নিন্দা জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিজেপির আসাম প্রদেশের অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে এমন একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘুদের ‘পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক’ অবস্থায় গুলি করে হত্যাকে ন্যায্য বলে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এমন আচরণ অত্যন্ত ঘৃণ্য ও আতঙ্কজনক। একে কোনো বিচ্ছিন্ন ট্রোল কনটেন্ট বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এটি গণবিদ্বেষ ও গণহত্যার আহ্বানের শামিল।

কংগ্রেসের পোস্টে আরও বলা হয়, এটি বিজেপির ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রকৃত চেহারা। তারা কয়েক দশক ধরে এই ঘৃণা লালন করে এসেছে ও গত ১১ বছরে তা স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করেছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সমাজে বিভেদ ও বিষ ছড়ানোর এই কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মোহাম্মদ এক্সে লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদী, আপনি ‘সবার সাথে সবার বন্ধুত্বের’ কথা বলেন, আর আপনার প্রিয় মানুষ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুসলমানদের গুলি করার ভিডিও বানিয়ে বিজেপি আসামের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করিয়েছেন। এটি ভারতের সংবিধানের ওপর আক্রমণ।

তিনি আরও লেখেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাক দর্শকের মতো আচরণ করছেন। এতে আদালতের ভূমিকাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, কারণ তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।

শিবসেনার (ইউবিটি) সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীও বিজেপিকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, নির্বাচন কমিশন লজ্জাহীনভাবে এই ভয়াবহ ঘৃণা ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি উপেক্ষা করবে। বিজেপির সামনে ইসি একেবারেই মর্যাদাহীন ও অকার্যকর।

এদিকে, এ ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই একই ব্যক্তি আগে মানুষকে রিকশাভাড়া কম দিয়ে সংখ্যালঘুদের হয়রানি করতে বলেছিলেন। তখন রাজনীতির নামে নাগরিকদের ছোটখাটো নিষ্ঠুরতায় অভ্যস্ত করে তোলা হচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই নিষ্ঠুরতা আরও বড় আকার নিয়েছে। বিজেপি আর ইঙ্গিত দিচ্ছে না, এখন তারা প্রকাশ্যেই রক্ত চাইছে ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ কর বলছে, পারলে থামাও।’

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

এসএএইচ