বাংলাদেশে এবছরের প্রথম নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- এটা একটি কঠিন সতর্কবার্তা।
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ৪৫-৫০ বছর বয়সী এক নারী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জানুয়ারি মারা গেছেন। আইইডিসিআর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগে তিনি খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছিলেন, যা রোগ ছড়ানোর একটি মূল উৎস হিসেবে পরিচিত।
নিপাহ ভাইরাস কী এবং কেন ভয়ঙ্কর?
নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। সাধারণত বাদুড়ের লালা বা মলমূত্রে দূষিত খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে ফল পরিষ্কার না করে খাওয়া ও খেজুরের কাঁচা রস পান করা এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয়। শরীরে প্রবেশের পর এই ভাইরাস ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন অঙ্গকে আক্রান্ত করতে পারে। ফলে শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক জটিলতা দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসের এই মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বে এই ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই তাড়াতাড়ি শনাক্ত করাই রোগী বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
যেসব লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?
প্রাথমিকভাবে নিপাহভাইরাসের লক্ষণগুলো মৃদু ভাইরাস ইনফেকশনের মতো দেখায় - জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, দুর্বলতা। কিন্তু রোগ যত বাড়ে, ততই হাইপারসালিভেশন (অতিরিক্ত লালা), বিভ্রান্তি, কনভালসন বা এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে প্রদাহ) - এর মতো ভয়ঙ্কর অবস্থায় চলে যেতে পারে। এই উপসর্গগুলো দেখলেই দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
তবে সংক্রমণের আগে থেকেই এ বিষয়ে সচেতন থাকা নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। তাই কাঁচা ফর খুব ভালোমতো না ধুয়ে কখনোই খাবেন না। শীতে খোলা গাছ থেকে সংগ্রহ করা খেজুরের রস কাঁচা পান করবেন না।
এশিয়ায় অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও ২০২৫-২৬ এর শীতে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে। দু’জন নার্স আক্রান্ত হলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর প্রায় ১৯০ জনের সংস্পর্শ পরীক্ষা ও নজরদারি চালিয়েছিল। পাশাপাশি অ্যানহান্সড সার্ভেইলেন্স, কন্টাক্ট ট্রেসিং, ল্যাব টেস্টিং ও ইনফেকশন কন্ট্রোল-এর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো, যেমন থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনাম বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং ও সতর্কতা জোরদার করেছে, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির ভ্রমণ ইতিহাস যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
যদিও মানুষের মধ্যে সরাসরি সংক্রমণ সাধারণত কম দেখা যায়, তবে হাসপাতালে চিকিৎসক বা পরিচর্যাকারীর সংস্পর্শে কিছু ক্ষেত্রে রোগ ছড়িয়ে পড়ার খবর রয়েছে। তাই নিপাহ ভাইরাসের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের ২১ দিন পর্যন্ত মনিটরিং করা হয় এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করা হয়।
সূত্র: আইইডিসিআর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এএমপি/এএসএম