জাতীয়

দূরপাল্লার বাসের সংকট, অনলাইনে মিলছে না টিকিট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে অনেক ভোটার গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ কেউ রওনা হয়ে গেছেন। কিন্তু ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাসের সংকট দেখা দিয়েছে। অনলাইনে মিলছে না টিকিট। এ কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিশেষ ছুটি দিয়েছে সরকার। এরপরের দুইদিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর শুক্রবার ও শনিবার সপ্তাহিক বন্ধ। সব মিলিয়ে টানা পাঁচদিনের ছুটি পড়ছে।

এ কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে গ্রামে ছুটবেন অধিকাংশ ভোটার। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে দূরপাল্লার বাসের জন্য অনলাইনে মঙ্গলবার ও পরদিন বুধবারের টিকিট তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় আড়াই হাজার বাস রিকুইজিশন করেছে পুলিশ। এ কারণে পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে। আবার ভোট দিতে অনেক পরিবহন শ্রমিক ছুটিতে যাচ্ছেন। ফলে নির্ধারিত রুটে বাসের যাত্রা সংখ্যাও কমছে। এ কারণে অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বাস কাউন্টারগুলোতে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি চলছে।

ওয়েবসাইটের চিত্রঢাকার গাবতলী থেকে রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে যাত্রী পরিবহন করে এসবি সুপার ডিলাক্স। এ কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৩০টি বাস ঢাকা ছাড়বে। এসব বাসের প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। দুই-চারটি বাসে একটি করে আসন ফাঁকা দেখা গেছে। এ রুটের অধিকাংশ বাসই ৪০ আসনের। একইভাবে বুধবারের জন্যও ওই কোম্পানির বাসের অধিকাংশ আসন বিক্রি হয়ে আছে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী ও বগুড়ায় যাত্রী পরিবহন করে হানিফ পরিবহন। কিন্তু রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ওই চারটি রুটের একটিতেও কোনো বাসের আসন ফাঁকা দেখা যায়নি।

ঢাকার আরামবাগ, রাজারবাগ, কলাবাগানসহ বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন করে গ্রিন লাইন পরিবহন। এই পরিবহনে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রুটের বাসগুলোতে পর্যাপ্ত আসন দেখা গেছে। তবে নড়াইল, যশোরের টিকিট নেই। খুলনার বেশ কিছু টিকিট দেখা গেছে।

ঢাকা থেকে রংপুরে যাত্রী পরিবহন করে শ্যামলি এন আর ট্রাভেলস। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাদের নন-এসি ১৬টি বাস ঢাকা ছাড়বে। কিন্তু এর কোনোটিতে একটি আসনও ফাঁকা দেখা যায়নি। তবে একই দিন সকাল সাড়ে ৯টা ও বেলা সোয়া ১১টায় দুটি এসি বাস রংপুর যাবে। এ দুটি বাসে বেশকিছু আসন ফাঁকা দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে অফিস শেষ করে ঢাকা থেকে রংপুর যেতে চান সরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। কিন্তু তিনি অনলাইনে কোনো বাসের টিকিট খুঁজে পাননি। আলাপকালে আনোয়ারুল বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের নন-এসি বাসে কোনো টিকিট নেই। এসি বাসেও ভাড়া বেশি চাচ্ছে। এমন অবস্থায় আগামীকাল কীভাবে যাব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলায় যাত্রী পরিবহন করা সোহাগ পরিবহনের অধিকাংশ নন-এসি বাসে আসন ফাঁকা নেই। এসি বাসে কিছু ফাঁকা রয়েছে। একইভাবে সিলেট রুটের এনা পরিবহন ও ইউনাইটেড পরিবহনের নন-এসি বাসেও তেমন ফাঁকা আসন দেখা যায়নি।

যা বলছে মালিক সমিতিবাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী জোবায়ের মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, সোমবার বিকেলে ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় কিছুটা বেশি ছিল। মঙ্গলবার ও পরদিন বুধবার অনেক চাপ থাকবে। ওই দুই দিনের টিকিট অনলাইনে আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

ট্রেনের টিকিটের অবস্থাঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকে। এজন্য ১০ দিন আগে টিকিট কাটতে হয়। এ হিসেবে যারা মঙ্গলবার বা পরদিন বুধবার দূরের গন্তব্যে যাতায়াত করতে চান, তারা ১০ দিন আগেই টিকিট কেটে রেখেছেন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সব রুটে ট্রেনের টিকিট ফাঁকা দেখা গেছে।

এমএমএ/একিউএফ