দেশজুড়ে

নির্বাচনের ছুটিতে গাজীপুরে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য গাজীপুর ছাড়ছেন বিভিন্ন পোশাক গার্মেন্টস ও কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ভোগরা বাইপাস পেয়ারা বাগান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের প্রায় সবাই উত্তরবঙ্গের যাত্রী।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কারখানাগুলো চারদিনের ছুটি ঘোষণা করা হলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য শ্রমিকরা গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগরা বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর চন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং বাসস্ট্যান্ডে এসে অবস্থান নেন। তারা বাস ও গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

সোমবার রাত ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ের পেয়ারা বাগান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, গন্তব্যে যাওয়ার জন্য শত শত যাত্রী অপেক্ষা করছে কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস পাচ্ছেন না।

রংপুর গ্রামে যাত্রী সেলিম হোসেন জানালেন, রংপুর যাওয়ার জন্য বাস না পাওয়ায় তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। মাঝেমধ্যে কয়েকটি বাস এলো তারা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন এতে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। একই চিত্র দেখা গেছে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকাতেও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ি এলাকায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অপেক্ষা করছেন। যারা সোমবার রাতে যানবাহন স্বল্পতার কারণে গন্তব্যে যেতে পারেনি তারা সকাল থেকেই বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ভোগরা পেয়ারা বাগান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কিছুসংখ্যক যাত্রী ছোট পিকআপে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। তাদের একজন ইসমাইল হোসেন জানান, বাসের ভাড়া বেশি হওয়ায় কম পয়সায় পিকআপে করে রংপুর যাচ্ছি।

অপর যাত্রী শরীফ হোসেন বলেন, মূলত ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা যাচ্ছি। পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে বেড়ানোও হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক নেতা জানান, নির্বাচনের জন্য অনেক বাস পুলিশ রিকুইজিশন করেছে। যার কারণে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম। তবে কিছু কিছু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন।

এ ব্যাপারে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, সোমবার বিকেল থেকে সড়কে যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় যাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। সকাল থেকে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/এমএন/এমএস