ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এই তিন প্রার্থীর নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা রইলো না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করেন।
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি রিট করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তবে শুনানি শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রিট সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৫ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল করেন নাহিদ। আবেদনে বলা হয়, কাইয়ুম ভানুয়াতো নামের একটি দেশের নাগরিক।
সেই আপিলের শুনানির তারিখ পিছিয়েছে। সেটি হবে নির্বাচনের পর।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল। নির্বাচন কমিশন ওই আবেদন খারিজ করে দিলে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দিলে লিভ টু আপিল করেন ইউসুফ সোহেল। আজ সেটিও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগে একই আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে। তবে উভয়েই তাদের আপিল প্রত্যাহার করে নেন। পরে ওই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে তা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন তিনি। আজ আদালত সেটির শুনানিও নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দেন।
ফলে বিএনপির এই তিন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নিতে আর বাধা রইলো না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এফএইচ/এসএনআর/এমএস