কৃষি ও প্রকৃতি

নারায়ণগঞ্জে কমেছে ফুল চাষ, ফোটেনি সময়মতো

প্রতি বছরের মতো এবারও ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সাবদী, মীরকুণ্ডি ও দিঘলদী এলাকা। চোখ যেদিকে যাবে; সেদিকেই শুধু ফুল আর ফুল। এলাকাজুড়ে শুধুই ফুলের বাগান। এ ফুল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে ছুটির দিনে যেন দর্শনার্থীদের ঢল নামে এ এলাকায়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরজুড়েই নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার দিঘলদী ও সাবদীসহ কয়েকটি এলাকায় ফুল চাষ হয়ে থাকে। তবে শীত মৌসুমে প্রায় সবাই ফুল চাষ করেন। সেই সঙ্গে শহরে ফুলের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করেন দীঘলদি ও সাবদী এলাকার ফুল চাষিরা। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকায়ও এখানকার ফুল যায়।

বন্দর উপজেলার দিঘলদী ও সাবদী গ্রামের প্রায় ৬৫ হেক্টর চাষ হচ্ছে জিপসি, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, চেরি, জাপানি, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুল। মাঠের পর মাঠ লাল গাঁদা ও গ্লাডিওলাস ফুলের দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ফুল চাষ কম হয়েছে। সেই সঙ্গে ফুল বিক্রির মৌসুম চলে এলেও পরিপূর্ণভাবে ফুল ফোটেনি।

জন্মদিন, বিয়ে, আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, গৃহসজ্জায় ব্যবহার করা হয় এসব ফুল। এসবের পাশাপাশি বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস, বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ, স্বাধীনতা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো দিনগুলোতে ফুলের চাহিদা থাকে বেশি। নারায়ণগঞ্জে এ চাহিদার অনেকটাই পূরণ করে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী, দিঘলদী ও মুকুলদী এলাকার ফুল।

আরও পড়ুনমাগুরায় বরই চাষে বাড়ছে উৎপাদন ও বাজার চাহিদা 

আসমাউল হুসনা নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‌‘শহরের কোলাহল ছেড়ে এই সুন্দর পরিবেশে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হওয়া উচিত। জায়গাটা অনেক সুন্দর। হরেক রকমের ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।’

পড়াশোনার পাশাপাশি ফুলের ক্ষেতে কাজ করেন দুর্জয় বারই। তিনি বলেন, ‘এ বছর মোটামুটি ফুলের চাষ হয়েছে। কারণ এ বছর বর্ষার পানি নামতে দেরী হওয়ায় সময়মতো ফুল গাছের চারা রোপণ করা যায়নি। যে কারণে ফুল বিক্রির সময় হয়ে গেলেও ফুল ফোটেনি। তারপরও আশা করি চালান উঠে যাবে।’

প্রায় ৪০ বছর ধরে ফুল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নকুল চন্দ্র হালদার। তিনি বলেন, ‘এ বছর অবস্থা তেমন ভালো না। বর্ষার পানির কারণে দুই মাস পিছিয়ে চারা রোপণ করা হয়েছে। দুই মাস আগে লাগাতে পারলে ফুল দুই মাস আগে আসতো। সামনে রোজা চলে আসছে। রোজার সময় ফুল তেমন বিক্রি হয় না। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি তেমন ভালো না।’

বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘গত বছর থেকে এ বছর ফুলের আবাদ কম হয়েছে। কারণ এ বছর জাতীয় দিবসগুলো রমজান মাসে পড়েছে। সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের একটা ব্যাপার আছে। যে কারণে এ বছর ফুল চাষিরা শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন।’

আরও পড়ুনশার্শায় কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষে তিনগুণ ফলন 

তিনি বলেন, ‘এ বছর নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ৬৫ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় ৪ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কৃষকেরা ফুল চাষ করেছেন।’

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসইউ