জাতীয়

কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না: ইসি সচিব

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এরইমধ্যে ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ২৯৯ আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যালট পেপার ও নির্বাচন উপকরণ এরইমধ্যে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন কেবল ভোটের দিনের অপেক্ষা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য তথ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘মিডিয়া সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইসি সচিব এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হলে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রথমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যাবে। সেখান থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল সংকলন করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। কমিশন পর্যায়ক্রমে সেই ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করবে।

ইসি সচিব বলেন, এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে আলাদা একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় কাঠামোগত প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন থাকায় এসব কেন্দ্রের ফলাফল আসতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশ অযথা দীর্ঘায়িত হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

আখতার আহমেদ জানান, কোনো কোনো সংসদীয় আসনে ১২০টির বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ মোট ১২১টি কেন্দ্রের ফলাফল একসঙ্গে সংকলন করতে হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে এই সংকলন কার্যক্রম শুরু হবে, যার সময়সূচি রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগেই ঘোষণা করেছেন।

সাংবাদিকদের ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যের ব্যাখ্যাও দেবে। তবে অপতথ্য ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, সত্য যত কঠিনই হোক, সত্যই বলা হবে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শতভাগ নির্ভুলতা সম্ভব না হলেও উল্লেখযোগ্য ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং মৃত ভোটারদের নাম কর্তন ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও জানান, তরুণ ভোটার অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আইনে সংশোধন এনে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচনে দুই ধরনের ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, একটি ব্যালটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের সরকার নির্ধারিত হবে আর অন্য ব্যালটের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে পরিচালনা করা কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ধাপে ধাপে তা মোকাবিলা করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২৯৯ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনে পরবর্তীতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বিদেশি সংবাদকর্মীদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদকর্মীদের যাতায়াত ও কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ নির্বাচন আয়োজন করা।

জেপিআই/এসএনআর/এমএন