দেশজুড়ে

গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যানজট, দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। একসঙ্গে হাজারো মানুষের বাড়ির পথে ছুটে চলায় অতিরিক্ত ভাড়া ও যানজটের কবলে পড়েছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। এর ফলে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।

গাজীপুর থেকে গাইবান্ধাগামী পোশাক শ্রমিক রতন মিয়া বলেন, কারখানা থেকে ছুটি পেয়েছি ভোট দেওয়ার জন্য। সকালেই রওনা হয়েছি, কিন্তু চন্দ্রা এলাকায় এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছি। কখন বাড়ি পৌঁছাবো বুঝতে পারছি না।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে বাসে করে রংপুর যাচ্ছিলেন পোশাক শ্রমিক রেহানা বেগম। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু রাস্তার এই যানজটে ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি। কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা যানজটের কবলে পড়েছে।

চালকরা জানান, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বাড়ি ফেরায় সড়কে চাপ বেড়েছে। ফলে মাঝেমধ্যেই যানবাহন ধীরগতিতে চলছে বা থেমে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একযোগে ছুটি পাওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহনের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করলেও অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা মাওনা ও জৈনাবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, লম্বা সময় ছুটি থাকলে মহাসড়কের শতশত পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এবার পরিস্থিতিটা ভিন্ন রকম। পুলিশের সব সদস্যরা নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত। পুলিশ সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় চন্দ্রাসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে।

তিনি আরও বলেন, স্বল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে আমরা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দুপুরের মধ্যে যাত্রী ও গাড়ির চাপ কমে যাবে বলে আশা করছি।

মো. আমিনুল ইসলাম/এমএন/এমএন