লাইফস্টাইল

দুই জেলার ভোটার দম্পতি, জানতে হবে যে নিয়মগুলো

বিয়ের করেছেন, এক ছাদের নিচে পেতেছেন সুখের সংসার। কিন্তু ভোটার তালিকায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই রয়েছেন আলাদা আলাদা জেলায়। এমন অবস্থায় নতুন কিছু নয়, এটা আমাদের দেশের খুব সাধারণ একটা ঘটনা। চাকরি, পড়াশোনা, বিয়ে বা বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে অনেক দম্পতির ভোটারের এলাকাই আলাদা থেকে যায়। কিন্তু এই বিষয়টি অবহেলা করলে ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নানা ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

তাই দুই জেলার ভোটার দম্পতিরা কোন নিয়মগুলো জানবেন, কী করলে সমস্যা এড়ানো যাবে সেগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। চলুন ঝামেলা এড়াতে জেনে নেই সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে।

প্রথমেই জানতে হবে স্বামী-স্ত্রী আলাদা জেলার ভোটার হওয়া কি আইনসম্মত? এর উত্তর আমাদের অনেকেরই অজানা। আলাদা জেলার ভোটার হওয়া কোনো অপরাধ বা অনিয়ম নয়, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনসম্মত। বাংলাদেশে ভোটার এলাকা নির্ধারণ হয় ব্যক্তির স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার ভিত্তিতে। ফলে বিয়ের পরও কেউ চাইলে আগের জেলার ভোটার হিসেবেই থেকে যেতে পারেন।

তবে ভোট দেওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজ নিজ ভোটার এলাকায় উপস্থিত থেকে ভোট দেওয়া। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ভোট দিতে চাইলে কিন্তু ভোটার এলাকা আলাদা হলে, এক জায়গা থেকে দুজনের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেককেই নিজ নিজ ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। তাই অনেকেই বিয়ের পর তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন। তবে বিয়ের পর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যুক্তিযুক্ত। যেমন-

স্থায়ীভাবে নতুন জেলায় বসবাস শুরু করলে ভবিষ্যতে সব নাগরিক সেবা (পাসপোর্ট, ব্যাংক, সরকারি সহায়তা) সহজ করতে চাইলে ভোট দেওয়ার জন্য দূরে যাতায়াত এড়াতে চাইলে ভোটার এলাকা পরিবর্তন না করলে কী সমস্যা হতে পারে?

ভোটার এলাকা পরিবর্তন না করলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না, তবে নির্বাচনের সময় দূরের জেলায় গিয়ে ভোট দেওয়া কষ্টকর হতে পারে, জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা বর্তমান ঠিকানার সঙ্গে না মিললে কিছু সরকারি কাজে অতিরিক্ত যাচাই লাগতে পারে, নতুন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক সেবায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের নিয়ম কী?

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এজন্য সাধারণত প্রয়োজন হয় জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা পরিবর্তনের প্রমাণ (ভাড়ার চুক্তিপত্র, ইউটিলিটি বিল বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন), অনলাইনে আবেদন অথবা উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সরাসরি আবেদন। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ ও যাচাই শেষে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও পড়ুন:  নির্বাচনি উত্তাপে যেন না পুড়ে যায় দাম্পত্য সম্পর্ক কেন টেকেনি আমিরের সংসার, জানালেন নিজেই মানুষ পরকীয়ায় জড়ায় কেন? গবেষণা যা বলছে স্বামী বা স্ত্রীর ভোটার এলাকা একসঙ্গে করতে চাইলে কী করবেন?

দুজনের যেকোনো একজন চাইলে অন্যজনের জেলার ভোটার হতে পারেন। তবে দুজনের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। বিয়ের সনদ সহায়ক কাগজ হিসেবে কাজে আসতে পারে। একসঙ্গে আবেদন করলেও প্রক্রিয়া আলাদাভাবে সম্পন্ন হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা ও ভোটার এলাকা কি এক বিষয়? এর উত্তর আমাদের অনেকেরই জানা নেই। এ বিয়ষটি পুরোপুরি এক নয়, কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত ঠিকানা আর ভোটার এলাকা একসঙ্গে থাকাই ভালো, তবে অনেক সময় ঠিকানা হালনাগাদ করলেও ভোটার এলাকা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে নির্বাচন অফিস থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

ভোটার তথ্য হালনাগাদ না করলে কী ঝুঁকি?

ভোটার তালিকায় নাম খুঁজে না পাওয়ার ঝুঁকিভবিষ্যতে স্মার্ট এনআইডি বা সংশোধনী কাজে দেরিসরকারি সুবিধা পেতে জটিলতা

কখন ভোটার তথ্য হালনাগাদ করা সবচেয়ে ভালো?

জাতীয় নির্বাচনের অনেক আগেভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি চলাকালীননতুন ঠিকানায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরুর পর

সচেতন থাকলেই ঝামেলা এড়ানো সম্ভব

স্বামী-স্ত্রী দুই জেলার ভোটার হওয়া কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হয় তখনই, যখন নিয়ম না জেনে বিষয়টি অবহেলা করা হয়। নিজের ভোটার তথ্য নিয়মিত যাচাই করা, প্রয়োজন হলে সময়মতো হালনাগাদ করা এবং নির্বাচনের আগে ভোটার কেন্দ্র নিশ্চিত করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সচেতন সিদ্ধান্তই পারে ভোটাধিকারকে ঝামেলামুক্ত রাখতে।

জেএস/