লাইফস্টাইল

কেন টেকেনি আমিরের সংসার, জানালেন নিজেই

‘পর পর দুবার বিবাহবিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা’ বলিউড তারকা আমির খানের ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে বহুদিন ধরেই কৌতূহল ছিল অনুরাগীদের। সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয় আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন তিনি। কিন্তু বয়স ও অভিজ্ঞতার ভারে পৌঁছে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন অভিনেতা। আশ্চর্যের বিষয়, দায় চাপাননি কাউকে নিজের দিকেই তুলেছেন আঙুল।

আমিরের স্বীকারোক্তি, তিনি ছিলেন প্রচণ্ড কাজপাগল। সিনেমাই ছিল তার একমাত্র জগৎ। কাজ করতে করতে কখন যে পরিবার, সম্পর্কের মানুষগুলো অবহেলিত হয়ে পড়েছে, তা হয়তো নিজেও টের পাননি। তার কথায়, ‘আমি সিনেমার দুনিয়াতেই হারিয়ে গিয়েছিলাম।’

এখানেই শেষ নয়। নিজের আর একটি স্বভাবের কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেতা। মানসিক আঘাত বা গভীর কষ্টের সময় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিতেন। তখন কারও সঙ্গে কথা বলা তো দূরের কথা, ৩-৪ দিন একা একাই কাটিয়ে দিতেন। কারও সহানুভূতি বা সঙ্গ চাননি, বরং নিজেকে আড়াল করতেই স্বস্তি পেতেন। আমিরের উপলব্ধি, অতিরিক্ত কাজের প্রতি ডুবে থাকা এবং কষ্টে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আমির খানের স্বীকারোক্তি আসলে একটাই সত্য তুলে ধরে দাম্পত্য জীবনে শুধু ভালোবাসা নয়, সময়, বোঝাপড়া আর মানসিক উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায় কাজের প্রতি নিষ্ঠা কি আদৌ দোষের? পেশাগত সাফল্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম তো ইতিবাচক গুণ হিসেবেই ধরা হয়। তা হলে কীভাবে সেটাই দাম্পত্য জীবনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে?

এ বিষয়ে ভারতের জনপ্রিয় মনোরোগ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি একে অপরকে বোঝার মানসিকতা থাকে, সম্পর্কের রসায়ন ঠিক থাকে, তা হলে একজন বেশি কাজ করলেও সম্পর্ক ভাঙার কথা নয়।’

সমস্যা তৈরি হয় যেখানে

দাম্পত্য সম্পর্কে যদি একজন অতিরিক্ত কাজের চাপে সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, তা অন্য পক্ষের জন্য ধীরে ধীরে বোঝা হয়ে উঠতে পারে। একা সব সামলাতে গিয়ে ক্লান্তি ও বিরক্তি জন্ম নেওয়াই স্বাভাবিক।

সংসার মানেই যৌথ দায়িত্ব সন্তান পালন হোক বা দৈনন্দিন জীবনযাপন। শুরুতে একজন হয়তো সব মেনে নেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হতেই পারে, তিনি বা সংসারটি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সম্পর্কের কাছের মানুষটির কাছ থেকে আবেগী সহানুভূতি পাওয়ার প্রত্যাশা থাকে। বিপদের সময়ে যদি সেই মানুষটি নিজেকে আড়াল করে ফেলেন, কাছে আসতে না দেন, তা হলে সঙ্গীর মনে গুরুত্বহীনতার বোধ জন্ম নিতে পারে।

দাম্পত্যে শুধু আর্থিক নিরাপত্তাই যথেষ্ট নয়, মানসিক উপস্থিতিও জরুরি। সময় না দেওয়া, কথা না বলা, সব কিছু কাজের অজুহাতে এড়িয়ে গেলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিত্ব আলাদা। কাজপাগল মানুষও সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন; শর্ত একটাই, দু’পক্ষের বোঝাপড়া থাকতে হবে।

আরও পড়ুন:  মানুষ পরকীয়ায় জড়ায় কেন? গবেষণা যা বলছে ‘আঙ্কেল’ নয়, কেন ‘ভাইয়া’ ডাকলে খুশি হয় পুরুষেরা স্বামীর সাথে ঝগড়া, আলমারি গোছানোই সমাধান! একা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কি সম্পর্ক ভাঙে?

মানুষের দুঃখ সামলানোর ধরন এক নয়। কেউ কষ্টে প্রিয়জনের কাছে সব উজাড় করে দেন, আবার কেউ একা থেকেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চান। শর্মিলা সরকারের মতে, এমন মানুষকে জোর করে কথা বলাতে যাওয়ার চেয়ে তার স্পেসটুকু দেওয়া ভালো। সঙ্গী যদি বুঝে নেন যে কয়েক দিন চুপ থাকলেই সব স্বাভাবিক হয়ে যায়, তা হলে ধৈর্য ধরলে সম্পর্ক টিকে যেতে পারে।

তবে সতর্কতা এক জায়গাতেই কাজের চাপ হোক বা মানসিক আঘাত, সব কিছুর মাঝেও সঙ্গীর প্রতি সংবেদনশীল থাকা জরুরি। যদি কারও মনে হয়, তার আবেগকে কেউ বুঝছে না বা গুরুত্ব দিচ্ছে না, তখনই দাম্পত্যে ফাটল ধরার শুরু।

জেএস/