জাতীয়

ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সকাল হওয়ার আগেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী ভোটাররা কেন্দ্রে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। অনেককে ভোর থেকেও লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ আগেই কেন্দ্রে চলে এসেছেন। সকাল ৭টার আগেই কোথাও কোথাও কেন্দ্রের মূল ফটকে ভোটারদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

খিলগাঁও তালতলা এলাকার একটি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবদুল কাদের জাগো নিউজ বলেন, সকাল সকাল চলে এসেছি। পরে ভিড় বাড়লে ঝামেলা হতে পারে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবো।

রামপুরার সালামবাগ জামে মসজিদ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষমাণ জামাল হোসেন বলেন, অনেকদিন পর ভোট নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখছি। তাই দেরি না করে চলে এসেছি। আশা করি পরিবেশ ভালো থাকবে। আমি আসার আগেই অনেকেই এখানে চলে এসেছে।

তিনি বলেন, সকালে ভোট কেন্দ্রের চিত্র দেখতেই মূলত বের হয়েছিলাম। এখন ভাবছি ভোট দিয়ে বাসায় ফিরবো। ভোট উপলক্ষ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখছি। আমাদের চাওয়া ভোটের পুরো সময় এই উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রত্যেকে যেন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

একই কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ ভোটার সিয়াম হোসেন বলেন, প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দিচ্ছি। তাই একটু উত্তেজনাও কাজ করছে। শুরুতেই ভোট দিতে সকাল সকাল চলে এসেছি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভোটের পরিবেশ ভালো থাকবে। আমাদের একটাই চাওয়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যেন ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ভোটের পরও যেন দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মো. মহিউদ্দিন বলেন, এখানে ফজরের নামাজ পড়েছি। নামাজ শেষেই আমরা কয়েকজন লাইনে দাঁড়িয়েছি। সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাসায় যাবো। 

কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়েই ভোট গ্রহণ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের শৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়াতে ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যবেক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

এমএএস/এমকেআর