রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে সকাল সকাল ভোট দিতে ঢাকা-১৩ আসনের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে ভোট দিতে এসেছেন মো. আলম হোসেন। ৫৩ বছর বয়সে এটা তার তৃতীয় ভোট।
মো.আলম হোসেন বলেন, আমার এখন ৫৩ বছর বয়স চলছে। এই বয়সে এটা আমার তৃতীয় ভোট। আমার ভালো লাগছে সকালেই ফজরের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে চেয়েছি যেন ভালো একজন প্রার্থী আমাদের দেন। আল্লাহ যদি কবুল করে তাহলে ইনশাআল্লাহ। আমাদের এলাকায় যাকে দেওয়া হয়েছে সে খুব ভালো মানুষ। তাকেই ভোট দিয়েছি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এসব বলেন তিনি।
গণভোট নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে বুঝতে কোন ঝামেলা হয়নি।
অন্য বুথের প্রথম ভোটার মো. ইকবাল হোসেইন বলেন, সবার আগে ভোট দিতে পেরে নিজের কাছে খুবই আনন্দ লেগেছে এবং একটা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। আমি আশা করি সারাদিন যেন এই পরিবেশ বজায় থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের দায়িত্ব খুব সুন্দর ভাবে পালন করছে। আশা করি এবার আমরা সুষ্ঠু ভালো একজন শাসক আমরা পেয়ে যাবো পরবর্তী ৫ বছরের জন্য।
গণভোটে কোন জটিলতা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণভোটে কোন জটিলতায় পরতে হয়নি। ভেতরে যারা দায়িত্ব পালন করছে তারা সব বুঝিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়াও সারা দেশের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩শ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।
কেআর/জেএস