ভোট দেয়ার পর সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা হয়কালির ছাপ দেওয়া বৃদ্ধাঙ্গুলের। ভোট শুধু দেশের জন্য দায়িত্ব পালন নয়, এটি স্মৃতিময় এক অভিজ্ঞতা। আর সেই স্মৃতি ধরে রাখার সহজ ও মজার উপায় হলো আঙুলের ছবি তোলা। এই ছোট ছবি শুধু একটি মুহূর্তকে ধরে রাখে না, এটি ভবিষ্যতে সেই দিনের আনন্দ এবং দায়িত্ববোধের চিহ্ন হিসেবেও কাজ করে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ছবি তুললে ভালো হবে-
হাত পরিষ্কার রাখাআঙুলের ছবি তুলতে গেলে প্রথমেই হাতে ও আঙুলকে পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দেওয়ার আগে বা পরে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।কালি আঙুলে থেকে থাকে, তা ছবিতে আরও প্রাণবন্ত দেখাবে। তবে অতিরিক্ত ময়লা বা ব্লার এড়িয়ে চলা জরুরি। আঙুল ও হাত সুন্দর রাখতে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। নারিকেলের তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি খুব ভালো কাজ করবে।
নেইলপলিশ দিতে চাইলেআঙুলের ছবিতে নেইলপলিশ দিলে আরও আকর্ষণীয় দেখাবে। এমন সময় হালকা ও সফট শেড সবচেয়ে মানানসই। ন্যুড, মিল্কি হোয়াইট, সফট পিঙ্ক, পিচ বা সম্পূর্ণ ট্রান্সপারেন্ট নেইলপলিশ কালি বা আঙুলের ডিটেইলকে সুন্দরভাবে হাইলাইট করবে। পাশাপাশি, নখ ভাঙা বা ময়লা না থাকার বিষয়েও বিশেষ খেয়াল রাখুন।
স্মার্টফোনের ক্যামেরাপরবর্তী ধাপ হলো ক্যামেরার মান। স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়েই আঙুলের ছবির জন্য যথেষ্ট। তবে চেষ্টা করুন প্রাকৃতিক আলোতে ছবি তুলতে। সূর্যের আলো বা জানালা দিয়ে আসা হালকা আলো ছবিতে আঙুলের দাগ ও ভোটের কালি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। যদি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করতে হয়, তাহলে তা সরাসরি আঙুলে না বরং হালকা পাশে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করুন, যাতে ছায়া ও গ্লেয়ার না হয়।
ক্যামেরার এঙ্গেল ঠিক রেখেক্যামেরার এঙ্গেলও গুরুত্বপূর্ণ। আঙুলকে সামান্য নড়াচড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন কোণে ধরুন। পাশ থেকে বা সামান্য উপরের কোণ থেকে তোলা ছবি আঙুলের ডিটেইল এবং কালি পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলবে। চাইলে দুই আঙুল একসঙ্গে ধরেও ছবি তোলা যায়। এতে ছবিটা আরও স্মার্ট এবং মজার দেখাবে।
এডিটিংয়ের মাধ্যমে এডিটিংয়ের মাধ্যমে ছবিটাকে আরও আকর্ষণীয় করা যায়। লাইট, কনট্রাস্ট, এবং স্যাচুরেশন সামান্য বাড়ানো যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ফিল্টার ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ এটি প্রাকৃতিক এবং রিয়েলিস্টিক স্পর্শ কমিয়ে দিতে পারে।
আঙুলের ছবি কেবল কালি নয়, সেটি আরও ব্যক্তিগত করতে পারা যায়। ছোট্ হ্যান্ডরাইটিং, সেলফি হাতের সাথে আঙুল, বা ব্যাকগ্রাউন্ডে জাতীয় পতাকা বা ভোটকেন্দ্রের কিছু অংশ রাখলেই ছবিতে গল্প তৈরি হয়। মনে রাখবেন, ছবিটা যেন শুধুমাত্র আঙুল নয়, বরং নির্বাচনের মুহূর্তের স্মৃতি হয়ে ওঠে।
ছবিটি বন্ধু ও পরিবারকে শেয়ার করতেও ব্যবহার করতে পারেন। সামাজিক মাধ্যমে ‘ভোটের স্মৃতি’ হিসেবে পোস্ট করা হলে অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারেন। এমনকি ভবিষ্যতে নিজের কাছে সংরক্ষণ করলেই সেই দিনের দায়িত্ববোধ মনে পড়বে।
এই ছবি শুধু মজা বা সামাজিক শেয়ারিংয়ের জন্য নয়, এটি দেশের প্রতি আপনার দায়িত্বের চিহ্ন। এক টিপ, একটি হাসি এবং একটি আঙুলের মধ্যে লুকিয়ে আছে নির্বাচনের আনন্দএবং দায়িত্ববোধের পূর্ণ অনুভূতি। তাই ভোটের দিন আঙুলের ছবি তোলার মাধ্যমে এই মুহূর্তটাকে চিরকাল স্মৃতিতে ধরে রাখুন।
সূত্র: ফটোগ্রাফি টিপস, নেল অ্যান্ড হ্যান্ড কেয়ার গাইডস
আরও পড়ুন: ওয়াশিং মেশিন নয়, প্রয়োজন হাতের যত্ন চাল ধোয়া পানি, শীতে নখ মজবুত রাখার প্রাকৃতিক উপায়
এসএকেওয়াই/