প্রবাস

মালয়েশিয়ায় ৬ ভুয়া চিকিৎসকসহ আটক ১৮

রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু এলাকায় অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগে ছয়জন ভুয়া চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন বিদেশিকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। একই অভিযানে জব্দ করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনবিহীন বিপুল পরিমাণ ওষুধ।

শুক্রবার বিকেলে জালান তুন তান সিউ সিন, পুডু এলাকায় বিশেষ অভিযানে নামে ইমিগ্রেশন বিভাগ। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান পরিচালনা করে জেআইএমের গোয়েন্দা ও বিশেষ অপারেশন শাখার পাসতাক ইউনিট। অভিযানে সহযোগিতা করে জাবাতান কেসিহাতান কুয়ালালামপুর এর ফার্মেসি এনফোর্সমেন্ট শাখা। দুই সপ্তাহের গোপন নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, ২৪ থেকে ৫১ বছর বয়সী ১৮ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নিজেদের ‘চিকিৎসক’ পরিচয় দিয়ে অভিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাতেন। সামনের অংশে ছিল নিত্যপণ্যের দোকান, কাপড়ের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ভ্রমণ সংস্থার কাউন্টার ও সেলুন। আর পেছনের অংশে গোপনে তৈরি করা হয়েছিল পরীক্ষাকক্ষ ও ওষুধ সংরক্ষণের কক্ষ, যেখানে রাখা ছিল নিবন্ধনবিহীন বিভিন্ন ওষুধ।

লোকমান এফেন্দি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক। তুলনামূলক কম খরচ এবং সহজ যোগাযোগের সুযোগ থাকায় তারা এসব স্থানে চিকিৎসা নিতেন।

অভিযানে জব্দ করা ওষুধের মধ্যে ছিল ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথানাশক—যেগুলো সাধারণত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সরবরাহ করা যায় না। এসব ওষুধের কোনোটিই সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব ওষুধ বাংলাদেশ থেকে আগত পর্যটকদের মাধ্যমে বড় পরিমাণে দেশে আনা হতো। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে ৫০ থেকে ১০০ রিঙ্গিত মূল্যে বিক্রি করা হতো।

আটক ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে এ্যাক্ট ১৯৫২এবংইমিগ্রেশন এ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের অপব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম ও নিবন্ধনবিহীন ওষুধ সরবরাহের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এমআরএম