ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দখল করে ব্যালটে সিল, পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় ভোটগ্রহণ করে ফলাফল ঘোষণার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গাইবান্ধা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গাইবান্ধা-৪ আসনে পাঁচটি কেন্দ্রে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী প্রিজাইডিং অফিসারকে তালা বন্ধ করে রাখে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। এসময় বিএনপির লোকজন কেন্দ্র দখল করে ব্যালটের ধানের শীষে সিল মারে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কিন্তু তারা কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। বিএনপির প্রার্থীর লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিরাভাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা, কুমিরাভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোচাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিংহজানি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বিএনপির লোকজন ধানের শীষ প্রতীকে ব্যালটে সিল মারছেন। কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যের উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটে।
এছাড়া একটি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮০০ ভোটের স্থলে ২ হাজার ৮০০ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। রেজাল্ট শিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ফান্ডের বান্ডেলকে ১০০টি হিসেবে দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার একাধিক ভিডিও এবং ডকুমেন্ট রয়েছে।
দখল হওয়া কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ হয়নি। এসব কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে পুণঃভোট গ্রহণ ও সব কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনা করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ এর অধ্যাপক আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৫ আসনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহুরুল হক সরকার এবং জেলা শিবিরের সভাপতি রুম্মান ফেরদাউসসহ জামায়াতের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আনোয়ার আল শামীম/আরএইচ/এএসএম