ফিচার

আজও কেন রাজকুমার ও দাসীর প্রেম কাহিনী হৃদয় স্পর্শ করে?

মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার গল্প কখনোই পুরোনো হয় না। যুগের পর যুগ পেরিয়ে, মানুষ আজও প্রেম কাহিনীকে নতুন করে সাজিয়ে, বাঁচিয়ে এবং বারবার ফিরে ফিরে আসে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে। তাই এই গল্পগুলো আজও টিভি, সিনেমা, উপন্যাস এবং স্ট্রিমিং সিরিজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

কাল্পনিক কাহিনী, তা রোমান্টিক হোক বা অ্যাডভেঞ্চার, আমাদের এক অদৃশ্য জায়গায় নিয়ে যায় যেখানে আমরা নিজের চিন্তা, আবেগ, আশা এবং ভয়গুলোকে পরীক্ষা করতে পারি-বাস্তব জীবনের ঝুঁকি ছাড়া। তাইতো মানুষ আজও রাজকুমার ও কাজের মেয়ের মতো প্রেম কাহিনী পছন্দ করে। শুধু সাদামাটা রোমান্সের জন্য নয়, বরং মানুষের মানসিক, আবেগীয় এবং সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়ানো অনুভূতির প্রতিফলন ঘটে।

মনস্তত্ত্বের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেম ও রোমান্স গল্পগুলো মানুষের মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট রসায়নিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ডোপামিন, অক্সিটোসিন এবং নোরএপিনেফ্রিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হলে আনন্দ এবং আবেগীয় সংযোগ বৃদ্ধি পায়। তাই দর্শক রোমান্স দেখে আনন্দবোধ ও আবেগীয় সংযোগ অনুভব করতে পারে।

এই নিউরোকেমিক্যাল প্রক্রিয়া মানুষকে গল্পের চরিত্রের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত করে এবং দর্শক তাদের অনুভূতি বাস্তব মনে করে অংশগ্রহণ করার মতো অনুভব পান। দর্শক শুধু দেখতে থাকে না, বরং চরিত্রগুলোর অনুভূতিকে ‘এম্প্যাথাইজ’ করে নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়।

সিনেমা বা সিরিজের গল্পে প্রেম কেবল দু’জনের আকর্ষণের কাহিনী নয়, এটি সামাজিক রীতি, পরিবার, মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত আশা আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ওত প্রত্য়োতভাবে জড়িয়ে থাকে। চরিত্রদের মধ্যকার সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়া, বিচ্ছিন্নতা, দ্বিধা বা লজ্জা-এসব মানুষের অভিজ্ঞতার অংশ, যা দর্শক সহজেই নিজের জীবনের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পান।

মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রকাশ, প্রেম ও সম্পর্কের গল্পগুলো দর্শকের ভাবনাচিন্তা ও আবেগকে উদ্দীপিত করে। চরিত্রদের আবেগ অনুভব করার সময় দর্শকরা নিজেদের জীবনের সম্পর্ক, মূল্যবোধ এবং আশা ভালবাসার সঙ্গে মিল খুঁজে পান। ফলে যে অনুভূতি তৈরি হয়, তা কেবল বিনোদনের আনন্দ নয়; বরং দর্শকের নিজস্ব আবেগ ও অনুভূতির ইতিবাচক প্রতিফলনও হয়।

আজও এই গল্পগুলো জনপ্রিয়, কারণ এটি দর্শককে একটি আলাদা সময়, সমাজ ও নিয়মের জগতে নিয়ে যায়। প্রেমের নিয়ম, বাধা এবং সামাজিক প্রত্যাশা ভিন্ন হলেও আবেগ, আকাঙ্ক্ষা এবং সম্পর্কের গভীরতা একই থাকে। দর্শক কেবল গল্পটি দেখেন না বরং সেই আবেগীয় যাত্রা নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে বারবার ফিরে দেখতে চান।

রাজকুমার ও কাজের মেয়ের প্রেম কাহিনী সামাজিক শ্রেণিবিভাগ, প্রথা এবং অসমতার দেয়াল ভেঙে ভালোবাসার জয়গান গায় বলে আজও হৃদয় স্পর্শ করে। এই কালজয়ী আখ্যানগুলো নিঃস্বার্থ, পবিত্র ভালোবাসা এবং মানুষের ভেতরের রূপ দেখার মানবিক বার্তা দেয়। সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে মানুষের মনের টানে একে অপরের প্রতি ঝুঁকে পড়া কাহিনীগুলো দর্শকদের আবেগে আপ্লুত করে।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন: বসন্ত আর ভালোবাসা যেন একই সুতোয় গাঁথা রোমিও-জুলিয়েট থেকে শাহজাহান-মমতাজ, ইতিহাসের করুণ ভালোবাসা 

এসএকেওয়াই/