বসন্ত আর ভালোবাসা যেন একই সুতোয় গাঁথা

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনি কি কখনও ভেবেছেন - ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন এত বিশেষ? শুধু ফুল, চকলেট আর লাল গোলাপের জন্য, নাকি এর পেছনে আছে রক্ত-মাংসের এক ইতিহাস? আর বাঙালির কাছে কেন ভালোবাসা দিবস মানেই পলাশ-শিমুলে রাঙা বসন্ত? ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আবেগ - এই তিনের সেতুবন্ধনেই গড়ে উঠেছে আজকের ভালোবাসা দিবস।

রোমান ইতিহাস থেকে বিশ্বউৎসব

ভ্যালেন্টাইনস ডে’র সূচনা নিয়ে একাধিক কিংবদন্তি আছে। সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি জড়িয়ে আছে রোমান ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে। তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দ্বিতীয় তরুণদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন - ধারণা ছিল, অবিবাহিত পুরুষেরা ভালো সৈনিক হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভ্যালেন্টাইন গোপনে যুগলদের বিয়ে পড়াতেন। এর ফলেই ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে পোপ গেলাসিয়াস দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

সময়ের সঙ্গে এই দিনটি ধর্মীয় স্মরণ থেকে রূপ নেয় ভালোবাসা প্রকাশের বৈশ্বিক উৎসবে। এখন এটি শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পরিবার, বন্ধু, এমনকি নিজের প্রতিও ভালোবাসা জানানোর দিন।

বসন্ত ও ভালোবাসার সংযোগ

বাঙালির সংস্কৃতিতে বসন্ত মানেই নতুনের ডাক। শীতের ধূসরতা পেরিয়ে যখন প্রকৃতি নতুন পাতা আর ফুলে সাজে, তখন মানুষের মনেও এক ধরনের সজীবতা কাজ করে। এই মানসিক নবজাগরণ ভালোবাসার অনুভূতিকেও উসকে দেয়।

বাসন্তী শাড়ি, হলুদ পাঞ্জাবি, কপালে গাঁদা বা পলাশ - রঙ যেন পোশাক ছাড়িয়ে আবেগে ছড়িয়ে পড়ে। ভালোবাসা দিবস আর পহেলা ফাল্গুন প্রায় একই সময়ে পড়ায় দুই সংস্কৃতির মিলন ঘটে এক অনন্য আবহে। পাশ্চাত্যের ভ্যালেন্টাইন আর প্রাচ্যের বসন্ত - এ যেন হৃদয়ের কূটনৈতিক সেতুবন্ধন।

কবিতা, গান ও আবেগের উত্তরাধিকার

বসন্তকে ঘিরে আমাদের সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ কিংবা কাজী নজরুল ইসলামের বসন্তগীতি - এসব সুরে প্রেম, বিরহ আর মিলনের কথা বারবার ফিরে আসে। বসন্তের আবহে ভালোবাসা যেন শব্দ পায়, সুর পায়, ভাষা পায়।

মনোবিজ্ঞানীরাও বলেন, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মুড ও আবেগের সম্পর্ক আছে। রোদেলা আবহাওয়া ও উজ্জ্বল রং ইতিবাচক অনুভূতি বাড়ায়, যা সম্পর্কের উষ্ণতাকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

আজকের ভালোবাসায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন

আজকের ভালোবাসা দিবস শুধুই আমদানি করা উৎসব নয়। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারের অংশ হয়ে গেছে। ফুলের তোড়া, হাতে লেখা চিঠি, কিংবা সাদামাটা একসঙ্গে হাঁটা - সবই হয়ে উঠেছে ভালোবাসার ভাষা।

তবে ভালোবাসার জন্য আসলেই আলাদা দিন লাগে না - তবুও একটি দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্ককে যত্নে রাখার কথা। বসন্ত যেমন পুরোনো ঝরিয়ে নতুনের আহ্বান জানায়, তেমনি ভালোবাসাও শেখায় নতুন করে শুরু করতে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ডট কম, হিস্ট্রি ডট কম, ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।