ফিচার

গরু-ঘোড়া নয়, লালমনিরহাটের মেঠো পথে চলছে ‘ছাগলের গাড়ি’

গ্রামবাংলার মেঠো পথে গরুর গাড়ি কিংবা ঘোড়ার গাড়ির দৃশ্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু তাই বলে ‘ছাগলের গাড়ি’? শুনতে অবাক লাগলেও এমনই এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর যানের দেখা মিলেছে লালমনিরহাটে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের আমেজের মধ্যেই দুর্গাপুর দিঘলটারী এলাকার ভোটার ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে দেখেন, ছাগল দিব্যি টেনে নিয়ে যাচ্ছে ছোট্ট একটি গাড়ি, আর তাতে বসে আছে যাত্রী আসনে শিশুরা।

সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য একজন বাবার মেধা আর ভালোবাসার সংমিশ্রণে তৈরি এই বাহনটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর দিঘলটারী এলাকার তরুণ খোরশেদ আলম। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সন্তানদের সময় দিতে ভালোবাসেন তিনি। বাড়িতে নিজের সন্তানের মতোই আদর করে পালন করেন দুটি ছাগল। কিন্তু সমস্যা হলো, সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বের হলে ছাগলগুলোকেও সঙ্গে নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তা দৃষ্টিকটু দেখাত।

খোরশেদ আলম ভাবলেন, এমন কিছু যদি করা যায় যেখানে সন্তান আর ছাগল, উভয়কেই একসঙ্গে নিয়ে ঘোরা যাবে! এই ভাবনা থেকেই তিনি নিজের মেধা খাটিয়ে তৈরি করেন এই বিশেষ গাড়ি। যেখানে ইঞ্জিনের বদলে ‘হর্সপাওয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন তার পোষা ছাগলকে।

গাড়িটি হালকা কাঠামোর ওপর তৈরি, যাতে দুটি ছোট প্যাসেঞ্জার সিট রয়েছে। সামনে ছাগল দুটির নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বাবা খোরশেদ আলম লাগাম ধরে থাকেন, আর পেছনের সিটে বসে তার ছোট্ট সন্তান ঘোড়ার গাড়ির মতো ছোট লাঠি হাতে ছাগলদের নির্দেশনা দেয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রাস্তায় মানুষের সমাগম ছিল বেশি। হঠাৎ এমন বাহন দেখে থমকে দাঁড়ান অনেকেই। স্থানীয় বাসিন্দা আলম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে গরু বা মহিষ দিয়ে গাড়ি চালানো দেখেছি, কিন্তু ছাগল দিয়ে গাড়ি চালানো বা যাত্রী টানা, এটা আমার কাছে একেবারেই নতুন। খোরশেদ তার মেধা খাটিয়ে ছাগলকে যেভাবে পোষ মানিয়ে চালক বানিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’

আরেক প্রতিবেশী আল আমিন বলেন, ‘আজকে প্রথম এমন দৃশ্য দেখলাম। গাড়িটি যিনি বানিয়েছেন, তার চিন্তাধারা অন্যরকম। তার মেধার কদর করা উচিত, যাতে তিনি ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু তৈরি করতে পারেন।’

উদ্ভাবক খোরশেদ আলম বলেন, ‘গাড়িটি এমনভাবে বানিয়েছি যেন ছাগলের কোনো শারীরিক কষ্ট না হয় বা কোথাও আঘাত না লাগে। ওদের ওপর যেন হালকা চাপ পড়ে সেভাবেই ব্যালেন্স করা হয়েছে। তাছাড়া ছাগলগুলোকে নিয়মিত রুটিন মেনে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়, যাতে ওদের শক্তি অটুট থাকে। রাস্তায় বের হলে মানুষ অবাক হয়ে তাকায়, কেউ কেউ ছবি তোলে, কেউবা ভিডিও করে। তবে এসবের চেয়ে খোরশেদ আলমের কাছে বড় পাওয়া তার সন্তানদের আনন্দ।

তিনি বলেন, ‘মানুষ দেখে অবাক হয়, তবে আমার ভালো লাগে। বাসায় বসে না থেকে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে পারি, ওরা আনন্দ পায়, এটাই আমার সার্থকতা।’

আরও পড়ুনভোট শেষে ফলাফল কীভাবে তৈরি হয় জানেন?তিস্তার চরে স্বপ্নের আলো জ্বালাচ্ছে ‘লালমনি বিদ্যাপীঠ’

মহসীন ইসলাম শাওন/কেএসকে