ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপনের পর থেকেই অনেক দেশে শুরু হয়েছে অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ। এই সপ্তাহের প্রথম দিনেই আসে স্ল্যাপ ডে, অর্থাৎ থাপ্পড় দিবস। নাম শুনলেই অনেকেই চমকে ওঠেন। মনে হতে পারে এটি রাগ, অভিমান আর প্রতিশোধের দিন। তবে বাস্তবে, এটি কেবল প্রতীকী-নিজের আবেগ প্রকাশ করার এবং পুরোনো দুঃখ কাটিয়ে নতুন পথের সূচনা করার এক মাধ্যম।
যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস নয়, তরুণদের মধ্যে এটি এক সাংস্কৃতিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।
থাপ্পড় দিবস উদযাপনের কারণও বেশ আকর্ষণীয়। যারা প্রেমে প্রতারিত হয়েছেন বা যাদের সম্পর্ক শেষ হয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি মানসিক মুক্তির সুযোগ। প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি রাগান্বিত অনুভূতি থাকলেও, প্রতিক্রিয়া কেবল প্রতীকী থাপ্পড়ে সীমাবদ্ধ থাকে। এটি মানসিক চাপ কমানোর, অতীতকে পিছনে ফেলার এবং সুখী জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক রূপান্তরমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে।
কিন্তু আধুনিক লাইফস্টাইল বলছে, স্ল্যাপ ডে মানে শারীরিক আঘাত নয় বরং পুরোনো বাজে ও তিক্ত স্মৃতিগুলোকে প্রতীকীভাবে ‘ছেঁড়ে ফেলা’ এবং নিজেকে নতুন জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। এটি হতে পারে আত্মসম্মান রক্ষার, ভুল থেকে শেখার এবং নিজের জীবনে নতুন করে শুরু করার দিন।
ভালোবাসার সম্পর্ক সবসময় মসৃণ হয় না। ভুল বোঝাবুঝি, অবহেলা কিংবা মানসিক চাপ একজন মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, দীর্ঘদিন টক্সিক সম্পর্কে থাকলে আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্যমতে, মানসিক সুস্থতার জন্য সীমারেখা নির্ধারণ (সেটিং বাউন্ডারিস) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রতি সম্মান দেখানো মানে প্রয়োজনে না বলতে শেখা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানসিক স্বাস্থ্যকে আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে। তারা বলে, মানসিক চাপ কমাতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি।
আজকের তরুণরা থাপ্পড় দিবসকে নতুনভাবে দেখছে। অনেকেই এটিকে ‘মুভ অন ডে’ হিসেবে উদযাপন করেন। এই দিনে থাপ্পড়ের মানে কাউকে আঘাত করা নয়, বরং নিজের জীবনের নেতিবাচকতা থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রতীকী বার্তা দেওয়া।
মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। যদি কোনো সম্পর্ক বা পরিস্থিতি আপনাকে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির পরিচয়। থাপ্পড় দিবস সেই সাহসের প্রতীক হতে পারে।
যেভাবে উদযাপন করতে পারেনসকালে নিজের জন্য একটু সময় দিন। প্রিয় কফির কাপে চুমুক দিয়ে দিনের পরিকল্পনা করুন, কিংবা ডায়েরিতে নতুন লক্ষ্য লিখে ফেলুন। এসব ছোট কাজই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে ভালো রাখে। কেউ কেউ নিজের লুক পরিবর্তন করেন-নতুন চুলের স্টাইল, নতুন পোশাক বা বোল্ড মেকআপ। এতে নতুন করে শুরু করার বার্তাও পরিষ্কার হয়।
প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে ছোট একটি আড্ডা করতে পারেন। আড্ডায় সবাই হাসিঠাট্টা করবে, গল্প শোনাবে এবং পুরোনো স্মৃতিগুলো নিয়ে হালকা আলোচনা করলে মনখারাপ দূর হবে। পাশাপাশি খাওয়ার ব্যবস্থা, প্রিয় গান বা লাইট গেমও রাখা যেতে পারে। এটি শুধু আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়, পুরোনো ভুলগুলোকে ইতিবাচকভাবে মেনে নেওয়া, আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং নতুন শুরু করার সাহস যোগাবে।
থাপ্পড় দিবস রাগের নয়, আত্মজাগরণের দিন। এটি মনে করিয়ে দেয়-আপনি যথেষ্ট, আপনি মূল্যবান। যে সম্পর্ক বা পরিস্থিতি আপনার শান্তি কেড়ে নেয়, তাকে প্রতীকী এক থাপ্পড় দিয়ে বিদায় জানান। নিজের শক্তিকে চিনুন, নিজের ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দিন। কারণ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি হলো নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন
আরও পড়ুন: প্রেমই মনের তারুণ্য পুরুষের ঘামের গন্ধ বদলে দিতে পারে নারীর হরমোন
এসএকেওয়াই/