সারাদিন ভোট নিয়ে উত্তেজনা, সংবাদের আশায় ঘণ্টা পর ঘণ্টা টিভি বা মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা - এভাবেই আজকের দিনটা কাটছে দেশের বেশিরভাগ মানুষের। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে নতুন তথ্যের ভার মানুষ বেশিক্ষণ সইতে পারে না। এক সময় মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই দরকার বিরতি, কিছুটা বিশ্রাম।
ভোট গ্রহণ শেষ, এবার শুরু হবে ফলাফলের অপেক্ষা। এই সময়টা কী করবেন? বারবার সংবাদ আর নিউজফিড চেক করেই কি পার করবেন? বরং একটু বিরতি নিন।
কেন এই বিরতি প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন আমরা ক্রমাগত সংবাদের পিছু ছুটি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক 'কগনিটিভ ওভারলোড'-এর শিকার হয়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক উত্তেজনা বা নির্বাচনের সময় প্রতি মুহূর্তে সংবাদ চেক করা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। একে বলা হয় 'হেডলাইন স্ট্রেস ডিসঅর্ডার'। অতিরিক্ত তথ্য আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মেজাজ খিটখিটে করে তোলে।
অপেক্ষার সময়টা যেভাবে কাটাতে পারেন:
ফলাফল আসা শুরু করলে উত্তেজনার পারদ আরও চড়বে। তবে শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে নিচের টিপসগুলো মেনে চলতে পারেন –
১. ডিজিটাল ডিটক্স: প্রতি এক ঘণ্টা পর অন্তত ১৫ মিনিট ফোন বা টিভি থেকে দূরে থাকুন। চোখের আরামের জন্য ঘরের বাইরের অন্ধকার বা আকাশের দিকে তাকাতে পারেন।
২. তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস বেছে নিন: সব নিউজ পোর্টাল বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল না করে কেবল ১-২টি নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম বা নির্বাচন কমিশনের অ্যাপের ওপর ভরসা রাখুন। এতে গুজবের বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ কমবে।
৩. আড্ডায় ফিরুন: স্ক্রিনের নীল আলোর চেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা বা চা খাওয়া মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম: ফলাফল আসতে রাত হতে পারে। তাই বলে সারারাত জাগা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।
আজকের দিনটি ইতিহাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে গিয়ে নিজের মানসিক শান্তি বিসর্জন দেবেন না। মনে রাখবেন, তথ্য আপনার জন্য, আপনি তথ্যের জন্য নন।
এএমপি/এমএন