নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় নির্যাতনের অভিযোগ করা নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে সাত সদস্যের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, উপ-পরিদর্শক (এসআই) সায়মার নেতৃত্বে একজন নারী এএসআই, দুইজন নারী কনস্টেবল ও তিনজন পুরুষ কনস্টেবল ভুক্তভোগীর পাশে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা এনসিপির চানন্দি ইউনিয়ন ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে পালিয়ে গেছে। তাকে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি এলে মামলা দায়ের করবেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ভুক্তভোগীকে আমরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু থানা বা কোর্ট থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় আমরা তার যেসব পরীক্ষা করা দরকার তা করতে পারছি না।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা শুধু ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। এখানে একজন নারী এসআই ও একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে পাঁচজন কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে এনসিপি এবং বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ধর্ষণের ঘটনার কোনো তথ্য আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সের এক নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি কর হয়।
এদিকে শনিবার রাতে নোয়াখালী-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ও নোয়াখালী-৪ আসনে পরাজিত জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার ওই নারীকে হাসপাতালে দেখতে গেলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভুক্তভোগীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। এসময় ওই নারীকে দেখতে কেন্দ্রীয় নেতারা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/জেআইএম