ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার নির্দেশ দিলে এই অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের সীমিত হামলার তুলনায় এবারের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও জটিল। কেবল পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। মঙ্গলবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওমান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার পাঠানো হয়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।
উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মনে হয় সেটাই সবচেয়ে ভালো হতে পারে। তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে এক দফা বিমান হামলা চালায়। তখন ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার যদি দীর্ঘমেয়াদি অভিযান হয়, তাহলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বর্তমানে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এর আগে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
ইরান বলছে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে না।
অন্যদিকে নির্বাসিত ইরানি বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, সামরিক চাপ ইরানের বর্তমান সরকারকে দুর্বল করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরাল এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম