জাতীয়

৫০ দলের মধ্যে এক শতাংশ করেও ভোট পায়নি ৪৫টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়াই করেছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের এক শতাংশ করেও পায়নি ৪৫টি দল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে হওয়া নির্বাচনে প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি।

এ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় এখন নির্বাচনের ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা রয়েছে। সে হিসাবে এক শতাংশ ভোট পেলেই উচ্চকক্ষে একটি আসন পাবে কোনো রাজনৈতিক দল। তাই প্রদত্ত ভোটের মধ্যে কোন দল কত শতাংশ পেয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে এই হিসাব বের করেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে সেটি হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এক শতাংশের বেশি যারাপ্রদত্ত ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ পেয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন ২ দশমিক ৭০ শতাংশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ও ২৭৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট টেনেছেন।

বিএনপির জোটসঙ্গী নির্বাচনে বিএনপির জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদ ০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, গণসংহতি আন্দোলন ০ দশমিক ১৪ শতাংশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ০ দশমিক ১৪ শতাংশ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ০ দশমিক ০৪ শতাংশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পায়।

এ জোটে বিএনপি ছাড়া কোনো দলই এক শতাংশের কোটা পার করতে পারেনি। জোট মোট ভোট পেয়েছে ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ।

জামায়াতের জোটসঙ্গীজামায়াত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ এক শতাংশের কোটা পার করেছে।

বাকি আট দলের মধ্যে এবি পার্টি ০ দশমিক ২৮ শতাংশ, খেলাফত মজলিস ০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ০ দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ০ দশমিক ১৭ শতাংশ, লেবার পার্টি ০ দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ০ দশমিক ০৪ শতাংশ, এলডিপি ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা ০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ভোট পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।

জাতীয় পার্টিবিগত তিন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল থাকা জাতীয় পার্টি এবার ১৯৯ আসনে নির্বাচন করে একটিতেও জিততে পারেনি। সব মিলিয়ে এক শতাংশ ভোটের কোটা পার করতে পারেনি তারা। দলটি ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

শূন্য শতাংশ ভোটইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন), বিএনএফ, মুসলিম লীগ, বিএনএল ও সমঅধিকার পার্টি ০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

অন্যদের অবস্থাবাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৬৩ জন নির্বাচন করে ০ দশমিক ০৮ শতাংশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ২৮ জন ০ দশমিক ০৪ শতাংশ, নাগরিক ঐক্যের ১১ জন ০ দশমিক ০১ শতাংশ, গণফোরামের ২০ জন ০ দশমিক ০১ শতাংশ, জাকের পার্টির পাঁচজন ০ দশমিক ০২ শতাংশ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ১০ জন ০ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

আমজনতার দল ১৫ আসনে ০ দশমিক ০১ শতাংশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২ আসনে ০ দশমিক ০৩ শতাংশ ও ইসলামি ফ্রন্ট ২০ আসনে ০ দশমিক ০৮ শতাংশ ভোট নিতে পেরেছে।

জনতার দল ০ দশমিক ০৫ শতাংশ, এনপিপি ০ দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ০ দশমিক ০২ শতাংশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস ০ দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাপ ০ দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মাইনোরেটি জনতা পার্টি ০ দশমিক ০১ শতাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ০ দশমিক ০১ শতাংশ, রিপাবলিকান পার্টি ০ দশমিক ০২ শতাংশ ভোট, বিএসপি ০ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ০ দশমিক ০১ শতাংশ ভোট, বাসদ (মার্কসবাদী) ০ দশমিক ০২ শতাংশ ও বাসদ ০ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

এমওএস/একিউএফ