নেপালের প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কেপি শর্মা ওলি টানা কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি চারবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২৫ সালে জেন-জি আন্দোলনের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর ছয় মাসও হয়নি। এর মধ্যেই ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা আবারও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছেন।
সিপিএন-ইউএমএল-এর প্রধান ওলি আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনে সংসদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের আশা করছেন।
তবে নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বালেন্দা শাহ, যিনি নিজেকে তরুণদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে। এর আগে ওলি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট চেয়েছেন।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ওলি সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে। তবে প্রকৃত কারণ ছিল দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও গভীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনক্ষোভ।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ওলি বিক্ষোভকারীদের টার্গেটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন, যখন ক্ষুব্ধ জনতা তার বাসভবন, সংসদ ভবন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আগুন দেয়।
পদত্যাগপত্রে ওলি বলেন, তিনি আশা করেন, তার সরে দাঁড়ানো রাজনৈতিক সমাধান ও সংকট নিরসনের পথে সহায়ক হবে।
জানুয়ারিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের কাছে বক্তব্য দেন, যা ওই প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনা খতিয়ে দেখছে।
ওলি দাবি করেছেন, তিনি কখনোই পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি।তিনি বলেন, আমি গুলি করার কোনো আদেশ দিইনি।
বরং তিনি সহিংসতার জন্য অনুপ্রবেশকারী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী শক্তি-কে দায়ী করেছেন।
সব সংকট সত্ত্বেও ওলি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। গত ডিসেম্বরে তিনি বিপুল ভোটে আবারও সিপিএন-ইউএমএল-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম