দেশজুড়ে

জাত ভিন্ন হওয়ায় নির্যাতন, চিরকুট লিখে প্রাণ দিলেন গৃহবধূ

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় চিরকুট লিখে মিতু রানী সরকার (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকায় বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মিতু রানী সরকার উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কোমরপুর এলাকার রিপন সরকারের স্ত্রী ও একই এলাকার দুলাল মহন্তের মেয়ে। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে মিতুর সঙ্গে রিপন সরকারের বিয়ে হয়। এক বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম নেয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রিপন সরকার বিভিন্ন সময় মিতুকে নির্যাতন করে আসছিলেন। তারা দুজন ভিন্ন জাতের। মিতু বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের হওয়ায় প্রায়ই তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটি নিয়ে তাকে নির্যাতন করতেন। এমনকি বেশ কয়েকবার মারপিট করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়েও দিয়েছেন। এরই এক পর্যায়ে সোমবার বাবার বাড়িতেই অভিমান করে আত্মহত্যা করেন মিতু।

মৃত্যুর আগে মিতুর লিখে যাওয়া একটি চিরকুটে তার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন- ‘রিপন সরকার, আমার কি এমন ভুল ছিল? জীবনে তোমার কাছ থেকে কিছু পেলাম না আঘাত ছাড়া। আজ তুমি আমাকে সম্মান না দেওয়ায় তোমার বাবা মা আমাকে ধরে মারে। সংসার করার জন্য তোমার কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি সেটা করতে দিলে না। জীবনে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছি আর নয়। কারণে অকারণে তুমি আমাকে অনেক মারধর করেছ! পৃথিবীর সব সুখ আমি তোমার দিয়ে গেলাম। রেখে গেলাম শুধু আমার শেষ উপহার। আমার (সোনার তরী) যাকে আমি মানুষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার জন্য সেটা আর হলো না। মুক্তি দিলাম তোমাকে আর আসব না তোমার কাছে।’

এ ঘটনায় মিতুর বাবা দুলাল মহন্ত বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় রিপনসহ তার বাবা মাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজ সন্ধ্যার দিকে মিতু রানী নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে। তাই তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

আনোয়ার আল শামীম/এফএ/জেআইএম