ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তিনদিনের ভারত সফর শুরু করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা ও রাফায়েল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে তার এই সফরে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে মুম্বাইয়ে পৌঁছান ম্যাক্রোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ। ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটি তার চতুর্থ ভারত সফর।
মঙ্গলবারই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।
১১৪টি রাফায়েল বিক্রির সম্ভাবনাদিল্লির সঙ্গে সামরিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করতে চায় ফ্রান্স। আলোচনা হচ্ছে আরও ১১৪টি ফরাসি নির্মিত রাফায়েল যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন>>ভারতে হাফপ্যান্ট পরে দৌড়াচ্ছেন ম্যাক্রোঁ, ভিডিও ভাইরাল‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’/ আরও ১১৪ রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারতরাশিয়া থেকে প্রায় ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানায়, রাফায়েল কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং ‘অধিকাংশ’ যুদ্ধবিমান ভারতেই তৈরি হবে। যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি, তবে ভারত সরকারের একটি সূত্র বলেছে—সংখ্যা হতে পারে ১১৪।
চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এটি ভারতের বিমানবাহিনীর জন্য ২০১৬ সালে কেনা ৩৬টি রাফায়েলের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাশাপাশি, নৌবাহিনীর জন্য আগেই অর্ডার দেওয়া ২৬টি রাফায়েলও রয়েছে।
প্যারিসের সায়েন্সেস পো সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভারতবিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফ জাফরেলো সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ‘কন্ট্রাক্ট অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিরক্ষা থেকে অর্থনীতি: বাড়ছে সহযোগিতামোদী ও ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের প্রথম হেলিকপ্টার ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করবেন। এটি ভারতের টাটা গ্রুপ ও ফ্রান্সের এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগ। কর্ণাটকের ভেমাগালে অবস্থিত কারখানায় এয়ারবাসের জনপ্রিয় এইচ১২৫ হেলিকপ্টার তৈরি হবে।
গত এক দশকে ফ্রান্স ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার, আর ফরাসি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটম্যাক্রোঁ-মোদী বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অঞ্চলে চীনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে একটি সংবেদনশীল ইস্যু রয়ে গেছে—ইউক্রেন যুদ্ধ। ভারত এখনো রাশিয়ার ২০২২ সালের আগ্রাসনের নিন্দা জানায়নি এবং মস্কো থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত তেল কেনা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যদিও দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।
সূত্র: এএফপিকেএএ/