এখন ঘুমাতে যাবে?- না!এটা খাবে?- না!
আপনার বাসায় কি এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়? শিশুর মুখে সারাক্ষণ ‘না’ শুনে অনেক অভিভাবকই ভাবেন- সন্তান কি জেদি হয়ে যাচ্ছে? নাকি এটি বড় হয়ে ওঠার স্বাভাবিক ধাপ?
‘না’ বলার বয়স কোনটি?মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ২ থেকে ৪ বছর বয়সে শিশুরা নিজের পরিচয় ও স্বাধীনতা আবিষ্কার করতে শুরু করে। এই সময় তারা বুঝতে শেখে - আমি আলাদা একজন মানুষ। আর সেই উপলব্ধির প্রথম ভাষা অনেক সময় হয় একটি শব্দ - না।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস জানায়, এই বয়সে ‘না’ বলা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অংশ। এটি সবসময় অবাধ্যতা নয়; বরং নিজের সিদ্ধান্তের অনুভূতি তৈরির চেষ্টা।
তবে অভিভাবকদের মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো- কখন এটি স্বাভাবিক, আর কখন উদ্বেগের?
যদি শিশু প্রতিটি বিষয়ে অকারণে বিরোধিতা করে, চরম রাগ দেখায় বা নিজের ও অন্যের ক্ষতি করে - তাহলে বিষয়টি আচরণগত সমস্যার দিকে যেতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুর ‘না’ বলা হলো নিজের সীমা বা বাউন্ডারি বোঝা ও বোঝানোর প্রক্রিয়া।
ইউনিসেফ বলছে, শিশুদের আবেগ প্রকাশের সুযোগ দিলে তারা ধীরে ধীরে সামাজিক নিয়মও শিখে নেয়। অর্থাৎ ‘না’ বলার মধ্য দিয়েই তারা আলোচনা, আপস ও সম্মতির ভাষা শেখে।
তাহলে কী করবেন?প্রথমত, শান্ত থাকুন। শিশুর ‘না’ শুনেই রেগে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়। বরং বিকল্প দিন। যেমন - এখন গোসল করবে, না পাঁচ মিনিট পরে? এতে সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুভূতি পায়, কিন্তু সীমাও অতিক্রম করে না।
দ্বিতীয়ত, স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত নিয়ম রাখুন। নিয়ম বদলাতে থাকলে শিশু বিভ্রান্ত হয়। অন্যদিকে ধারাবাহিকতা নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।
তৃতীয়ত, আবেগের ভাষা শেখান। সে যদি বলে - না যাব না, জিজ্ঞেস করুন -তুমি কি ক্লান্ত? বা তোমার কি এখন খেলতে ইচ্ছে করছে? এতে সে নিজের অনুভূতি চিনতে শিখবে।
শেখার প্রথম পাঠশিশুর ‘না’ বলা মানেই সে অবাধ্য- এ ধারণা সবসময় সঠিক নয়। বরং এটি আত্মপরিচয় গঠনের একটি ধাপ। আজ যে শিশু নিজের সীমা বোঝাতে শিখছে, বড় হয়ে সে অন্যের সীমাকেও সম্মান করতে পারবে।
অভিভাবকের কাজ হলো জেদ ভাঙা নয়, বরং ভালোবাসা ও ধৈর্যের সঙ্গে সীমারেখা শেখানো।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ইউনিসেফ, জার্নাল অব চাইল্ড সাইকোলজি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি, হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/এমএস