বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে অগ্রাহ্য করার শামিল এবং এটি গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন খানের সই করা এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছে। গণভোটের ফলাফল কার্যকর করার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানো জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের সমতুল্য।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। জনগণের অভিপ্রায়ের প্রকাশের ফলেই তৎকালীন সরকার পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করে। পরবর্তীতে বিপ্লবী ছাত্রজনতার অভিপ্রায় অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই সনদ প্রণীত হয় এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়—যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে জনগণের অভিপ্রায়নির্ভর বলে দাবি করেছে ডাকসু।
ডাকসু জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর ধারা-০৮ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ একইসঙ্গে হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট তা গ্রহণ করেনি। সংগঠনটির মতে, জুলাই বিপ্লবের যে প্রত্যাশা-স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার তা বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক শক্তির দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু বিএনপি জনরায় উপেক্ষা করে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সংকট সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছে ডাকসু।
অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য বিএনপি জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় নতুন সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, বিচার ও নির্বাচন-সবকিছুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এফএআর/এমএমকে