দেশজুড়ে

৭৭ দিনেও ফেরেননি আরাকান আর্মির হাতে আটক সেলিম

নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক কক্সবাজারের টেকনাফের জেলেদের মধ্যে ৭৩ জন পরিবারের কাছে ফিরতে পারলেও মোহাম্মদ সেলিম এখনো ফিরে আসেননি।

মোহাম্মদ সেলিম টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। গত ৩ ডিসেম্বর নাফ নদীর হোয়াইক্যং ঝিমংখালী এলাকায় মাছ ধরতে গেলে সেখান থেকে তাকে আরাকান আর্মির সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।

সোমবার ৭৩ জন জেলে দেশে ফিরতে পারলেও দীর্ঘ ৭৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও শোকের ছায়া।

জানা যায়, জীবিকার তাগিদে অন্য জেলেদের সঙ্গে নাফ নদীর ঝিমংখালি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন সেলিম। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, তাকে আরাকান আর্মি আটক করেছে। এরপর একে একে আটক জেলেরা ফিরলেও সেলিমের নাম ফেরত আসাদের তালিকায় না থাকায় পরিবার ভেঙে পড়েছে।

সেলিমের স্ত্রী তৈয়বা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রতিদিন ভাবি, হয়তো আমার স্বামী ফিরে আসবে। ছোট ছোট সন্তানরা বাবার জন্য কাঁদে। গতকাল ৭৩ জন জেলে ফিরে আসার খবর শুনে বুকের ভিতর আশার আলো জ্বলেছিল। কিন্তু সবার মাঝে আমার স্বামী সেলিমকে না দেখে আবারও সব অন্ধকার হয়ে গেলো।

তার বৃদ্ধ মা আয়েশা বেগম বলেন, আমার ছেলেটা খুব সহজ-সরল মানুষ। তাবলীগ জামাতের সঙ্গে সময় দিতেন, নামাজ-কালামে থাকতেন। জীবিকার তাগিদে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ছিল। আল্লাহর কাছে চাই, আমার ছেলেকে যেন সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ জাহান জানান, সেলিম খুব ভদ্র ও ধর্মভীরু মানুষ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। ৭৭ দিন ধরে তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে প্রায় জেলেরা নানা ঝুঁকির মুখে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নদীতে নামতে হয়। সেলিমের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে তার পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

৭৩ জেলের ফেরার আনন্দের মধ্যেও হোয়াইক্যংয়ের উত্তর পাড়ায় এখন শুধু অপেক্ষা-কবে ফিরবেন মোহাম্মদ সেলিম? কবে ভাঙবে অনিশ্চয়তার অন্ধকার? পরিবার ও স্বজনদের একটাই আকুতি সেলিমকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমার অংশে প্রবেশ করেন এসব জেলে।

এ সময় আরাকান আর্মি তাদের আটক করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করে। সেখানে তারা বিভিন্ন মেয়াদে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে প্রথম ধাপে সোমবার ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এবং ধাপে ধাপে বাকি আটক জেলেদেরকেও ফেরত আনা হবে।

জাহাঙ্গীর আলম/আরএইচ/এএসএম