জাতীয়

সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাত ঘণ্টা

প্রথম কর্মদিবস শেষে সচিবালয় ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু থেকে বেরিয়ে যান তিনি। দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি ও একাধিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে কাটে তার প্রথম অফিস দিবস। সচিবালয়ে আজ সাত ঘণ্টা অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমদিনের কর্মসূচি শুরু করেন তারেক রহমান।

এরপর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে সচিবালয়ে আসেন। সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

নতুন ১ নম্বর ভবনের তিনতলায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত কার্যালয়ে বসেই তিনি দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। বিকেল ৩টায় একই ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

পরিচিতিমূলক এ বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় জোরদার এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের কার্যক্রমে গতি আনা এবং প্রশাসনের কর্মদক্ষতা বাড়াতে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের প্রথম অফিস উপলক্ষে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের ছাপ। করিডোরজুড়ে সাজানো হয় ফুলের টব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নামফলক সরিয়ে বসানো হয় নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নামফলক। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল হাতে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরণ করে নেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন। বিশেষ করে নতুন ১ নম্বর ভবন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভবনে প্রবেশের আগে বসানো হয় আর্চওয়ে, পরিচয়পত্র যাচাই করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ করানো হয়। সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের ডগ স্কোয়াডকেও ভবনের নিচতলায় অবস্থান করতে দেখা যায়। মূল ফটকেও ছিল বাড়তি নিরাপত্তা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে। মঙ্গলবার বিকেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর রাতে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রায় দুই দশক পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে এবারই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তারেক রহমান। সচিবালয়ে তার প্রথম কর্মদিবস শেষ হলেও প্রশাসনে নতুন সরকারের গতিপথ নিয়ে আলোচনা ও প্রত্যাশার আবহ অব্যাহত রয়েছে।

এমএএস/বিএ