চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। পাঠকমহলে ‘শংকর’ নামেই পরিচিত এই লেখকের সাহিত্য যেমন বাংলা পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়েছে, তেমনি তার গল্প-উপন্যাস বারবার অনুপ্রাণিত করেছে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও। আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি বেলা ১টার দিকে অনন্তের পথে পাড়ি জমিয়েছেন।
সত্যজিৎ রায়
অনেকেই জানেন, কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায় শংকরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছিলেন সীমাবদ্ধ ও জন অরণ্য- যা তার বিখ্যাত ‘কলকাতা ট্রিলজি’র গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সত্যজিৎ ছাড়াও আরও কয়েকজন নির্মাতা শংকরের সৃষ্টিকে রূপালি পর্দায় তুলে ধরেছেন নিজস্ব ভঙ্গিতে।
পিনাকি ভূষণ মুখোপাধ্যায়: শংকরের জনপ্রিয় উপন্যাস চৌরঙ্গী অবলম্বনে ১৯৬৮ সালে নির্মিত হয় একই নামের চলচ্চিত্র চৌরঙ্গী। ছবিটি পরিচালনা করেন পিনাকি ভূষণ মুখোপাধ্যায়। এতে অভিনয় করেন উত্তম কুমার, অঞ্জনা ভৌমিক ও শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। মুক্তির পর ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং আজও বাংলা সিনেমার ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।
সৃজিত মুখার্জী: সময়ের ব্যবধানে একই উপন্যাসকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে হাজির করেন নির্মাতা সৃজিত মুখার্জী। তার পরিচালিত শাহজাহান রিজেন্সি ছবিটি দর্শকদের সামনে তুলে ধরে সমকালীন কলকাতার হোটেল-জগতের গল্প। এতে অভিনয় করেন আবির চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও মমতা শঙ্কর। এই ছবির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও পৌঁছে যায় শংকরের সৃষ্টি।
ঋত্বিক ঘটক: শংকরের উপন্যাস কত অজানারে অবলম্বনে ১৯৫৯ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক। প্রায় কুড়ি দিনের শুটিংও হয়েছিল। তবে আর্থিক ও প্রযোজনাগত জটিলতায় ছবিটি শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটি এক অপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই উল্লেখযোগ্য।
আরও পড়ুন:রমজান উদযাপনে বলিউড, হিনা-সানা-মুনাওয়ারের বিশেষ মুহূর্ত যার কারণে আজ তিনি বলিউডের বাদশা, জানালেন শাহরুখ খান
বাসু চ্যাটার্জি: শংকরের ‘মানসম্মান’ উপন্যাস অবলম্বনে হিন্দি ভাষায় নির্মিত হয় শীষা। ছবিটি পরিচালনা করেন বাসু চ্যাটার্জি। এতে অভিনয় করেন মিঠুন চক্রবর্তী ও মুনমুন সেন। এর মাধ্যমে শংকরের গল্প সর্বভারতীয় দর্শকের কাছেও পরিচিতি পায়।
সাহিত্যিক শংকর কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তার গল্পে ছিল সময়, সমাজ ও মানুষের জটিল বাস্তবতার গভীর পাঠ। আর সেই কারণেই বারবার চলচ্চিত্র নির্মাতারা ফিরে গেছেন তার কলমে-নিজ নিজ ভাষায়, নিজ নিজ দৃষ্টিতে।
এমএমএফ