ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পেরিয়ে গেলেও পিরোজপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সচেতন মহলের আশঙ্কা, শিক্ষা জীবনেই শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ না পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও দেশপ্রেম থেকে বিমুখ হতে পারে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলায় ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪টি মাদ্রাসা ও ৮টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিজ ও সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। বাকিগুলোতে নেই স্থায়ী কোনো স্মৃতিস্তম্ভ।
অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, এ উপজেলায় ১৩৪টি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে যার অধিকাংশে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। এমপিওভুক্ত ২৪ টি মাদ্রাসা ও ৮ টি কলেজে নেই কোনো স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, আব্দুস সালাম তালুকদার অ্যাকাডেমিসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে আগামী প্রজন্ম শহীদদের সম্মান করতে ভুলে যাবে, যা ভাষা শহীদদের জন্য অসম্মানজনক বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমরান শেখ ও কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির হিমেল ইসলাম তাদের আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার না থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি না। আমাদের দাবি, প্রতিটি স্কুলে যেন দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
সদর উপজেলার করিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদ হোসেন বলেন, এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, তারা জানিয়েছে, ‘একটি বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে আমাদের শহীদ মিনার নিশ্চিত করবে’। আমরা আশা করছি, এ বছর সম্ভব না হলেও আগামী বছর নিজস্ব বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার নির্মাণ এবং শহীদদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুল দিতে সক্ষম হব।
কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. কাবিরুল মুক্তাদির জানান, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনায় শহীদ মিনার অন্তর্ভুক্ত আছে, তবে বর্তমানে তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। শহীদ মিনার ভাষার জন্য, নতুন প্রধানের জন্য তাদের কাছে অনেক তাৎপর্য বহন করে। যে সব প্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. তরিকুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম