ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে বোর্ড অব পিস গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বোর্ডে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে বোর্ড অব পিসের প্রথম বৈঠকে এসব প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে। কাতার ও সৌদি আরব প্রত্যেকে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত আগামী কয়েক বছরে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত গাজার জন্য বোর্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রথম দিন থেকেই যেমন ছিলাম তেমনি বোর্ড অব পিসের প্রতিও কাতার তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান অর্জন করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে বোর্ডটি ২০ দফা পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন বিলম্ব ছাড়াই এগিয়ে নেবে যাতে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
শেখ মোহাম্মদ জানিয়েছেন, কাতার জাতিসংঘ অংশীদার ও বোর্ড অব পিসের সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা সমন্বয় অব্যাহত রাখবে।
তিনি ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগের উল্লেখ করেছেন যা প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ প্রস্তাব করেছিলেন। আরব ও ইসলামি দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরব শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক একীভূতকরণের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ ফিলিস্তিনি ইস্যুতে তার দেশের দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, কুয়েত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে, যার মধ্যে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, ১ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ লাঘব ও গাজায় স্থিতিশীলতা সমর্থনের প্রতিফলন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে আবুধাবি। পাশাপাশি বোর্ড অব পিসের মাধ্যমে গাজাকে সমর্থনে আরও ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা জানিয়েছেন, তার দেশ বোর্ডের কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যয়ে অর্থ সহায়তা দিয়েছে এবং গাজার জন্য কার্যকর ডিজিটাল সরকারি সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষতা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা বলেন, মরক্কো ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে প্রথম আর্থিক অনুদান দিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনী বৈঠকে ট্রাম্প গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন এই সংস্থায় ১০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে।
ট্রাম্প আরও জানান, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান ও কুয়েত সম্মিলিতভাবে ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জাপান তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি বড় সম্মেলনের আয়োজন করবে বলেও জানিয়েছেন।
বোর্ড অব পিস গাজায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী শান্তি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। ওয়াশিংটনের দাবি, পরবর্তীতে আরও কয়েকটি দেশ এতে যোগ দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে-যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে কয়েকশ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ৬১১ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ হাজার ৬৩০ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম